ফেনীতে গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

Published: 16 July 2021

ফেনী সংবাদদাতা :

ফেনীতে শাহজালাল (৩০) নামে এক গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার সকালে শহরের সুলতানপুর এলাকার আমিনবাজার সড়কের পাশে একটি পুকুর থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে ওই এলাকার গার্লস্ ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন আহসান মিয়ার বাড়ির সামনে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত শাহজালাল কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নেয়ামতপুর শাহ এলাকার সাগুলি গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরুন্নবী।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ফেনী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামের বাড়ি থেকে রক্তমাখা একটি পাঞ্জাবি উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর থেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাঢাকা দিয়েছে। পুলিশ তাকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে।

নিহতের চাচাতো ভাই আল আমিন জানান, কোরবানির হাটে বিক্রয়ের জন্য শুক্রবার রাতে কিশোরগঞ্জ থেকে ১৫টি গরু নিয়ে ফেনী আসেন শাহজালালসহ তার ১০ জন সহযোগী।

গরু বোঝাই ট্রাকটি সদর উপজেলার আমিনবাজার সড়কে সাহেববাড়ী এলাকায় তাদের বাড়ির সামনে (আলামিনের) আসেন। এক পর্যায়ে গরু বোঝাই ট্রাকের গতিরোধ করে স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল কালামসহ তিনজন ব্যক্তি। এসময় তারা ট্রাক থেকে গরু লুটের চেষ্টা করতে গরুর সাথে থাকা মালিক শাহজালাল ও তার লোকজন বাধা দেয়। গরু লুটের বিষয়টি বুঝতে পেরে আল আমিন ঘর থেকে বেরিয়ে এসে কাউন্সিলরকে বাধা দিয়ে কাউন্সিলর কালাম তাকেও মারধর করে। একপর্যায়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ক্ষিপ্ত হয়ে গরু ব্যবসায়ী শাহজালালকে মোটরসাইকেল করে তুলে নিয়ে যায়। পরে কালাম ও তার সহযোগীরা শাহজালালকে গুলি করে হত্যা করে পার্শ্ববর্তী নাগ বাড়ির একটি পুকুরে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।

আল আমিনের স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা শাহাজালাল গত বছর কোরবানির হাটে বিক্রয়ের জন্য গরু নিয়ে ফেনীতে তাদের বাসায় আসেন। পরে তিনি গরু বিক্রি করে ফেনী ছেড়ে তার এলাকায় ফিরে চলে যান। গত বারের মতো এবারও কোরবানির হাটে বিক্রয়ের জন্য গরু নিয়ে তিনি তাদের বাসায় আসছিলেন।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওমি) মো. নিজাম উদ্দিন আরও জানান, পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় কাউন্সিলর কালামের সহযোগী সাগর নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যার ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে পুলিশ।