যেভাবে গাড়ি ছিনতাই করতো ওরা ৫ জন
বিশেষ সংবাদদাতা :

গাড়ি চুরিতে তারা খুবই ধূর্ত। মুহূর্তেই যেকোনো গাড়ির লক ভাঙা কিংবা বিকল্প চাবি ব্যবহার করে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চুরি করে নিয়ে যেত ওরা। এমনকি গাড়ি শনাক্তের জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইসও বিকল করে গাড়ি নিয়ে পালাতো তারা। এরপর গাড়ির মালিককে ফোন করে অর্থ আদায় কিংবা গাড়ি বিক্রি করে দেয় চক্রটি। তারা চালককে চেতনা নাশক ওষুধ মেশানো খাবার খাইয়ে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যেতো। ঢাকার পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমন একটি সংঘবদ্ধ গাড়ি ছিনতাই চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক গাড়ি ছিনতাই ও চুরি করেছে। এতে তারা কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- আজিম উদ্দিন (৩৮), রফিক উল্লাহ (২৬), সেলিম (৫০), কামরুল হাসান (২৬) ও ওমর ফারুক (২৫)।
শুক্রবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা ৩টি পিকআপ, ১ টি সিএনজি, ১ টি পিস্তল, ১ রাউন্ড গুলি, ৩টি ছুরি, ১ টি চাইনিজ কুড়াল ও ৬টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে র্যাব’র আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গত ১১ই আগস্ট রাজধানীর দারুস সালাম এলাকা থেকে গাড়ি ছিনতাই চক্রের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে মূলহোতা আজিমসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ চক্রে ১৫-২০ জন জড়িত। পাঁচ-ছয় বছর ধরে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতিমধ্যে শতাধিক গাড়ি ছিনতাই করেছে। তিনি আরও জানান, চক্রটি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটসহ নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও গাজীপুরের আশপাশের এলাকায় পিকআপ, সিএনজি ছিনতাই করে আসছিল। প্রথমত: চক্রের সদস্যরা ছদ্মবেশে গাড়ি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। আরেকটি গ্রুপ মাঠ পর্যায় থেকে গাড়ি ছিনতাই করে। এ গ্রুপে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চালক ও মেকানিকরাও থাকে। যাতে নির্বিঘ্নে ছিনতাই বা চুরি করা গাড়ি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে পারে। পার্কিং অবস্থায় গাড়ির লক ভেঙে নিয়ে যাওয়াসহ ছদ্মবেশে চালককে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো খাবার খাইয়ে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, পরে সে সব গাড়ি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় লুকিয়ে রাখে। গাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা নিয়ে গাড়ি ফেরত দেয়। আবার কখনো গাড়ির রং পরিবর্তন করে বিক্রি করে কিংবা গাড়ির যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করে। সিন্ডিকেটের সদস্যদের নামে রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা ও গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তারা বিভিন্ন মামলায় আটক হয়ে জেলে গিয়ে একে- অপরের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে চক্রের সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র্যাব-৪ এর অধিনায়ক পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি মোজাম্মেল হক, র্যাব’র আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক মেজর রইসুল আজম মনি ও এএসপি আনম ইমরান খান ইমন প্রমুখ।




