বিয়ানীবাজারে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা প্রধান আটক
রাজু আহমদ :

বিয়ানীবাজারে বলাৎকারের ঘটনায় এক মাদ্রাসা প্রদানকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বিজিবি। এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে বলাৎকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। মাদ্রাসা প্রধান কর্তৃক বলাৎকারের শিকার ছাত্র মুখ খোলার পর থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে উঠে একটি পক্ষ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে সাবেক পৌর প্রশাসকের ব্যবসায়িক অফিসে হামলা চালিয়েছে মাদরাসার কতিপয় ছাত্ররা।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত মাদ্রাসা প্রধানকে মাদ্রাসা ক্যাম্পস থেকে তুলে নিয়ে যায় বিজিবি।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিয়ানীবাজার পৌরসভার ফতেহপুর হযরত হায়দর শাহ (রহ.) হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান হাফিজ আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে বলাৎকারসহ নির্যাতনের অভিযোগ করেন মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী। সরকারী কর্মচারী ওই শিক্ষার্থীর পিতা বিষয়টি নিয়ে কমিটির কাছে বিচারপ্রার্থী হলে তারা এ নিয়ে কোন সুরাহা করতে পারেন নি। নবাং গ্রামের আতাউর রহমান জানান, স্পর্শকাতর বিষয়টি সুরাহার জন্য সরকারী ওই কর্মচারীসহ নিজে বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রশাসক মো: তফজ্জুল হোসেন এর নিকট বিচার প্রার্থী হই। তিনি মুরব্বীয়ানদের নিয়ে মাদ্রাসার ওই ছাত্রের সাথে বুধবার রাতে তার অফিসে কথা বলেন। মাদ্রাসা ছাত্র বলাৎকারসহ নির্যাতনের কথা সাবেক প্রশাসকসহ মুরব্বীয়ানদের খুলে বলে।
এদিকে মাদ্রাসা ছাত্রের জবানবন্দির বিষয়টি প্রকাশ পেলে বুধবার রাতে মাদ্রাসা থেকে কতিপয় ছাত্ররা এসে সাবেক পৌর প্রশাসক মো: তফজ্জুল হোসেন এর ব্যবসায়িক অফিসে হামলা চালায়। এ সময় তারা তার অফিসে ইট পাথর নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ এসে তা নিয়ন্ত্রনে আনে।
এনিয়ে রাতভর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা, ইউএনও এবং পৌর সভার মেয়রসহ রাজনীতিক দলের নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করেন।
বিয়ানীবাজার পৌরসভার সাবেক প্রশাসক মো: তফজ্জুল হোসেন জানান, হাফিজ আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ নতুন নয়। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে এ সংক্রান্ত অনেক অভিযোগ পেয়েছি এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করেছি। সম্প্রতি একজন সরকারী কর্মচারীর পুত্রের সাথে অসৎ কর্মে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ এলে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করি। কিন্তু এ নিয়ে হাফিজ আব্দুর রহিম ফেসে যাওয়ার আশংকায় আমার অফিসে তার বাহিনী দিয়ে হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। পুলিশ এসে আমাদেরকে রক্ষা করে।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাসুক আহমদ মাদ্রাসা প্রধান কর্তৃক বলাৎকারের ঘটনাকে সাজানো নাটক বলে অভিহিত করে বলেন, মাদ্রাসাকে ধ্বংস করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এ রকম ঘটনা তিনি ঘটাতে পারেন না।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি হিল্লোল রায় জানান , রাতে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছে।
বিজিবি ৫২ সূত্র জানিয়েছে, স্পর্শকাতর বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে দেখছে। অভিযুক্ত মাদ্রাসাপ্রধানকে তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আঞ্চলিক প্রধানের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সূত্রটি জানায়, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তারা এ রকম আরো অভিযোগ পেয়েছেন। রাত ৯ টার দিকে হাফিজ আব্দুর রহিমকে বিজিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।




