অ্যালার্জির ধরন ও করণীয়

Published: 22 January 2022, 9:35 AM

পোস্ট ডেস্ক :


অ্যালার্জির সঙ্গে কম-বেশি সকলেই পরিচিত। তবে যারা ভুক্তভোগী, তারাই জানেন, কতটা মারাত্মক হতে পারে এই অ্যালার্জি। এটি যেমন একটি রোগ, আবার অন্য রোগের উপসর্গও বটে। ত্বকের ওপরে অ্যালার্জি হলে তা সহজেই বোঝা যায় এবং চিকিৎসা করা যায় কিন্তু খাদ্যনালি, শ্বাসনালি বা চোখের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় হলে, তা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

 

অ্যালার্জির উৎস নির্ণয় করা গেলেই পরবর্তী চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।
এগজিমা বা অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস

কারো এগজিমা হয়েছে মানেই বুঝতে হবে, তার ত্বক খুব বেশি পরিমাণে শুষ্ক। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের এই অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এ ছাড়া ৩০ বা ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে অনেকে আক্রান্ত হয়।

উপসর্গ: শুষ্ক ত্বকে চুলকানি থাকবে। শীতকালে সমস্যা বাড়বে। চুলকাতে চুলকাতে চামড়া ফুলে যাবে। তা থেকে সিক্রেশন হতে পারে। মাথায় খুশকি থাকে। সেই সাথে হাঁচি, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ থাকবে।

অ্যাটোপিক ট্রায়াড: এগজিমা, অ্যাজমা এবং অ্যালার্জিক রাইনাইটিস—এই তিনটির সমন্বয়কে বলা হয় অ্যাটোপিক ট্রায়াড। অনেকের এমন ধারণা রয়েছে যে, এগজিমা নির্মূল হলে অ্যাজমার সমস্যা বাড়বে। আদতে এটি ভুল।

অ্যাটোপিক মার্চ: এই তিনটি রোগ ক্রমান্বয়ে দেখা দেয়। সাধারণত কম বয়সে হয় এগজিমা। সাত-বারো বছরের মধ্যে দেখা দেয় ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা। বড় বয়সে হলে তখন ফুসফুস বিশেষজ্ঞকে দেখাতে হবে। আর অ্যালার্জিক রাইনাইটিস সাধারণত ১৮-২০ বছরের মধ্যে হয়।

আর্টিকেরিয়া অ্যালার্জি বা আমবাত

ফুলে ওঠার অ্যালার্জিকে সাধারণভাবে আমবাত বলা হয়। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। একে বলা হয় অ্যাঞ্জিয়ো ইডিমা। ল্যারিংক্সে ইডিমা হলে তাকে বলা হয় ল্যারেঞ্জিয়াল ইডিমা। খেতে গিয়ে গলায় খাবার আটকে যায়। শ্বাসকষ্ট এত সাংঘাতিক আকার ধারণ করে যে, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত করাতে হয়।

অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর্যন্ত আমবাত থাকতে পারে। তখন এটিকে বলা হয় ক্রনিক আর্টিকেরিয়া অ্যালার্জি।

ওরাল ফুড চ্যালেঞ্জ

কোনো বিশেষ খাবার থেকে অ্যালার্জি হচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্য প্রথমেই রক্ত পরীক্ষা বা অন্য কোনো পরীক্ষা করাতে বারণ করছেন চিকিৎসকরা। কারণ সেই পরীক্ষার ফল পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। তার পরিবর্তে ওরাল ফুড চ্যালেঞ্জ করে দেখতে পারেন। কোনো খাবার খেয়ে যদি অ্যালার্জি হয়, তবে দিন কয়েকের বিরতি নিন। আবার সেই খাবার খেয়ে দেখুন। তিনবার এমন করার পরে যদি প্রতিবারই অ্যালার্জি হয়, তখন টেস্ট করান।

চিকিৎসা: এ ধরনের অ্যালার্জির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিহিস্টামিন দেওয়া হয়। বাড়াবাড়ি হলে স্টেরয়েড দেওয়া হয়।

কনট্যাক্ট অ্যালার্জি

কয়েকটি বিশেষ ধরনের মেটাল, হাতঘড়ির ব্যান্ড, নেলপলিশ, আইলাইনার, সিগারেটের ছাই, কোনো বিশেষ ফুলের রেণু—ইত্যাদি থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। সাধারণত গরমকালে ঘাম বেশি হয়। ঘামের সোডিয়াম ক্লোরাইডের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে গরমকালে এ ধরনের অ্যালার্জি বেশি দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে অ্যালার্জির কারণ খুঁজে বার করাই এর চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

ওপরে আলোচিত সব ধরনের অ্যালার্জি ত্বকের উপরিভাগে হয়, যা দৃশ্যমান। এর বাইরেও কিছু অ্যালার্জি রয়েছে যা ত্বকের ভেতরে হয়।

বোলতা, মৌমাছি, সামুদ্রিক মাছের কামড়ে শ্বাসনালির ভেতরে এমনভাবে ফুলে যায় যে চিকিৎসার আগেই মৃত্যু পর্যন্ত হয়। চোখের কনজাংটিভাইটিস একধরনের অ্যালার্জি।