একই পরিবারের সাতজনের ইসলাম গ্রহণ
বিশেষ সংবাদদাতা :

শেরপুরের শ্রীবরদীতে হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন একই পরিবারের সাত সদস্য। স্বপ্নে আকৃষ্ট হয়ে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন জানা যায়। গত রবিবার (২১ আগস্ট) শেরপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্যাট আদালতে অ্যাডভোকেট আলমগীর কিবরিয়ার কামরুলের মাধ্যমে তাদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়টি এফিডেভিট বা হলফনামা করা হয়।
জানা যায়, শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের ভেলুয়া বাজারের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ প্রথমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের রবিদাস পরিবারের প্রধান মণ্ডল রবিদাস হিসেবে পরিচিত তিনি। একেবারেই দরিদ্র পরিবার তার। বাজারের ঝাড়ু দেওয়াসহ নিম্নমানের নানা কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে তিনি ইসলাম ধর্ম বিষয়ক বিভিন্ন স্বপ্ন দেখেন বলে জানান তিনি। এরপর থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য গোপনে নামাজ আদায় করতেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তার স্ত্রী প্রথম দিকে অসম্মত ছিলেন। পরবর্তীতে তার স্ত্রী সম্মত হলে পুরো পরিবার নিয়ে ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাওলাসহ ধর্মীয় নেতাদের জানানো হলে সবাই উপস্থিত হন। অতঃপর মসজিদের ইমামের মাধ্যমে কলেমা পাঠ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে পরিবারের সাত সদস্য।
অন্য সদস্যরা হলো- তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও এক নাতিসহ সাতজন। ইসলাম গ্রহণের পর নিজেদের নাম পরিবর্তন করেন তারা। মন্ডল রবি দাসের নতুন নাম আব্দুল্লাহ, তার স্ত্রী সুকিয়া রবি দাসের নাম আমেনা, মেয়ে সোনিয়া রবিদাসের নাম ফাতেমা, ছেলে শুভ রবিদাসের নাম উমর ফারুক, আকাশ রবিদাসের নাম উছমান গণি, বাধন রবিদাসের নাম হযরত আলী ও লাবন্য রবিদাসের নাম হুসাইন রাখা হয়।
ইসলাম গ্রহণের পর বসত-বাড়ি ও সহায়-সম্পত্তি বড় ভাইকে স্বেচ্ছায় দান করেন নওমুসলিম এই পরিবার। এরপর এক কাপড়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয় নেন তারা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভেলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বলেন, তারা এখন অসহায়। আমি ব্যাক্তিগতভাবে তাদের জন্য কাপড় কেনার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ধনাঢ্য ব্যাক্তিদের তাদের সহযোগিতা এগিয়ে আসার আহ্বান করেছি, যেন তাদের বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়।
এদিকে, একই পরিবারের সাত সদস্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় তাদেরকে দেখতে ভিড় করছেন এলাকার মানুষ। অনেকেই বাড়িয়ে দিচ্ছেন সহযোগিতার হাত। পুরো শহরে এখন আলোচিত হচ্ছে এই ঘটনা।




