জঙ্গি ছিনতাই: সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের এপিএস ফারুক জড়িত!
বিশেষ সংবাদদাতা :

ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ওমর ফারুক নামে এক আইনজীবী জড়িত বলে জানিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে আইনজীবী ওমর ফারুকের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিটিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ওমর ফারুককে ৫/৬ দিন আগে ঢাকার একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই দফায় চার দিনের রিমান্ড শেষে তিনি এখন কারাগারে আছেন।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, ওমর ফারুক প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সাবেক এপিএস।
তিনি আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়া জঙ্গি আবু সিদ্দিক সোহেলের বোনকে বিয়ে করেছেন।
সিটিটিসি সূত্র আরো জানায়, ওমর ফারুক তালুকদার ও তাঁর স্ত্রী তানজিলাকে গত ২০ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে তুলে ১৫ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে সেদিন লিখিতভাবে আদালতের কাছে দাবি করা হয়, দুর্নীতির মামলায় ২০১২ সালে ওমর ফারুক যখন কারাগারে ছিলেন, তখন তিনি জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি আবু সিদ্দিকের বোনকে বিয়ে করে আনসার আল ইসলাম নামের সংগঠনকে নানাভাবে সহযোগিতা করেন।
এছাড়া তিনি আইনজীবী পেশার আড়ালে তিনি জঙ্গিদের সহযোগিতা করেছেন। আদালত থেকে শ্যালক আবু সিদ্দিককে ছিনিয়ে নিতে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেন। ওমর ফারুকের মোবাইল ফোন খুদে বার্তা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তাঁর প্রথম স্ত্রী ওমর ফারুককে জঙ্গি আখ্যায়িত করেছিলেন।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, ওমর ফারুক আবু সিদ্দিকের স্ত্রী শিখার সঙ্গে ময়মনসিংহে যান। তাঁর সঙ্গে নানা বিষয়ে পরামর্শ করেন। আবার আদালত চত্বরেও অপর পলাতক জঙ্গি মোজাম্মেলের স্ত্রীর সঙ্গে ওমর ফারুক কথা বলেন।
ঘটনার আগে-পরের প্রযুক্তিগত তথ্য পর্যালোচনা করে সিটিটিসি সূত্র জানায়, ওমর ফারুক আবু সিদ্দিক সোহেল ও মোজাম্মেল হোসেনের স্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে এই দু্ই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। গত সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) তিনি এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সিটিটিসি সূত্র জানিয়েছে, দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ওমর ফারুকসহ এখন পর্যন্ত ১৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ওমর ফারুক কীভাবে দুই জঙ্গিকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন, সে ব্যাপারে আবু মোহাম্মদ হোসাইন (জঙ্গি মোজাম্মেলের বাবা) সাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন জানিয়ে সিটিটিসি সূত্র জানায়, সেখানে তিনি বলেছেন, ওমর ফারুক ময়মনসিংহে গিয়ে তাঁর মেয়ে শিখা ও মোজাম্মেলের স্ত্রী তৃষ্ণার সঙ্গে কথা বলেন।
গত ২০ নভেম্বর দুপুরে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় জঙ্গিরা। এসময় আসামি আরাফাত এবং সবুরকেও ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে তারা। পরে ঘটনাস্থল আরাফাত ও সবুরকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় কোর্ট পরিদর্শক জুলহাস বাদী হয়ে ২০ জনের নামে একটি মামলা করেন। মামলায় আরো সাত-আটজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। তবে পলাতক দুই জঙ্গির অবস্থান সম্পর্কে সিটিটিসি কোনো তথ্য জানায়নি।




