কিশোরগঞ্জে ফুটবল খেলা নিয়ে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১৫

Published: 18 April 2026

পোস্ট ডেস্ক :


কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় শিশুদের একটি স্কুলসহ কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে পাকুন্দিয়া পৌর সদরের হাপানিয়া ও টান লক্ষীয়া গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেলে হাপানিয়া গ্রামের কিছু শিশু পার্শ্ববর্তী টান লক্ষীয়া মীরপাড়া গ্রামের একটি মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। সে সময় হাপানিয়া গ্রামের শিশুদের ওই মাঠে খেলতে বাধা দেয় মীরপাড়া গ্রামের শিশুরা। এতে মীরপাড়ার শিশুদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে হাপানিয়া গ্রামের শিশুরা।

বাগবিতণ্ডা এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে সন্ধ্যায় টান লক্ষীয়া ও হাপানিয়া গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই গ্রামবাসীকে শান্ত করে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। এ সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল।

ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার বিকেলে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করে। এসময় উত্তেজিত গ্রামবাসীর হামলায় পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম আরিফুর রহমান, এসআই মশিউর রহমান, কনস্টেবল জাহিদুর রহমানসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়াও হাপানিয়া গ্রামের আলামিন, শামীম, টুটুল, হাসান, রতন ও খসরুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশসহ আহতরা পাকুন্দিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

তবে কোনো পক্ষই এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিবেশ শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ওসি বলেন, শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে এবং আজ শনিবার বিকেলে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষই অভিযোগ দেইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।