হজের ফরজ ও ওয়াজিব আমল— একজন হাজীর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি

Published: 9 May 2026

পোস্ট ডেস্ক :


হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ এবং একজন মুসলমানের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। এটি শুধু একটি সফর নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণের অনন্য প্রশিক্ষণ। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান একই পোশাকে, একই কণ্ঠে ‘লাব্বাইক’ ধ্বনি তুলে মহান রবের দরবারে হাজির হন— যা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক মহিমান্বিত দৃশ্য।

হজের প্রতিটি আমলের রয়েছে নির্দিষ্ট সময়, স্থান ও নিয়ম। এর মধ্যে কিছু আমল ফরজ, যা ছাড়া হজ আদায় হয় না; আবার কিছু আমল ওয়াজিব, যা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে দম বা কুরবানি আদায় করতে হয়। তাই একজন হাজীর জন্য হজের ফরজ ও ওয়াজিব আমলগুলো বিস্তারিতভাবে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আসুন, পবিত্র হজের ফরজ ও ওয়াজিব আমলগুলো সহজ ও সুন্দরভাবে জেনে নেই—

হজের ৩ ফরজ
হজের মৌলিক ফরজ আমল তিনটি। এগুলোর কোনো একটি বাদ পড়লে হজ আদায় হবে না। তহলো—

১️. ইহরাম বাঁধা

হজ ও ওমরাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো ইহরাম। নির্ধারিত মিকাত থেকে হজের নিয়তে বিশেষ নিয়মে ইহরাম বাঁধতে হয়। ইহরাম পরিধানের মাধ্যমে একজন হাজী দুনিয়াবি অনেক বৈধ কাজ থেকেও বিরত থাকেন, যা আত্মসংযম ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের প্রতীক।

যদি সফর সরাসরি মক্কার উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে বাংলাদেশ থেকেই ইহরাম বেঁধে রওনা হতে হয়। আর যদি আগে মদিনা বা অন্য কোথাও যাওয়া হয়, তাহলে মক্কায় প্রবেশের পূর্বে মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে।

হরামের ফরজ দুইটি

> নিয়ত করা

হজের উদ্দেশ্যে অন্তরে দৃঢ় সংকল্প করাই নিয়ত। মুখে এভাবে দোয়া করা যেতে পারে—

اَللّٰهُمَّ إنِّىْ اُرِيْدُ الْحَجَّ فَيَسِّرْهُ لِىْ وَتَقَبَّلْهُ مِنِّىْ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল হাজ্জা ফাইয়াসসিরহু লি ওয়া তাক্বাব্বালহু মিন্নি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি হজের নিয়ত করলাম। আপনি আমার জন্য হজ সহজ করে দিন এবং আমার হজ কবুল করুন।’

> তালবিয়া পাঠ করা

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ

উচ্চারণ: ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’

অর্থ: ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, নেয়ামত ও রাজত্ব আপনারই। আপনার কোনো অংশীদার নেই।’

পুরুষের জন্য তালবিয়া উচ্চস্বরে পাঠ করা সুন্নত আর নারীরা নিচুস্বরে তালবিয়া পাঠ করবে। পরপর তিনবার পাঠ করা মুস্তাহাব।

২️. আরাফার ময়দানে অবস্থান

আরাফায় অবস্থান হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

اَلْحَجُّ عَرَفَةُ

‘হজই হলো আরাফা।’

৮ জিলহজ মিনায় অবস্থানের পর হাজিরা ৯ জিলহজ সকালে আরাফার ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। আরাফায় অবস্থানের আগে গোসল করা সুন্নত। মিনা থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে আরাফার ময়দান অবস্থিত, যদিও বাংলাদেশি হাজীদের তাবু সাধারণত আরও দূরে হয়ে থাকে।

৯ জিলহজ সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার পর আরাফায় অবস্থান শুরু হয়। এ সময় সামান্য সময় অবস্থান করলেও ফরজ আদায় হয়ে যায়। তবে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করা ওয়াজিব।

যদি মসজিদে নামিরায় ইমামুল হজের পেছনে নামাজ আদায় করা হয়, তাহলে দুই রাকাত জোহর ও দুই রাকাত আসর একসঙ্গে আদায় করতে হবে। অন্যথায় আলাদা আলাদা আদায় করতে হবে। সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং সেখানেই (মুজদালিফায় গিয়ে) মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করতে হবে।

৩️. তাওয়াফে জিয়ারত

হজের সর্বশেষ ফরজ আমল হলো তাওয়াফে জিয়ারত। ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগেই এ তাওয়াফ সম্পন্ন করা উত্তম। বিলম্ব করলে দম বা কুরবানি ওয়াজিব হয়।