যুক্তরাজ্যের লিস্টারশায়ার পুলিশ হিজাবকে ইউনিফর্ম হিসেবে পরিধান করবে
পোস্ট ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের মুসলিম নারীদের পুলিশে যোগদানে উৎসাহিত করতে নিউজিল্যান্ড পুলিশের তৈরি হিজাব প্রথম বারের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে লিস্টারশায়ার পুলিশ।

আরও বেশি মুসলিম মহিলাদের যোগ দিতে উত্সাহিত করতে নিউজিল্যান্ড পুলিশ প্রবর্তিত একটি অপারেশনাল হিজাব প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডে বিচার করা হচ্ছে। তাছাড়া এতে সুরক্ষামূলক চৌম্বকীয় বন্ধনি আছে।
বর্তমানে লিস্টাশায়ারের একজন পুলিশ অফিসার হিজাব যাচাই-বাছাই করছেন। লিস্টাশায়ার পুলিশ সূত্র জানায়, নিউজিল্যান্ড পুলিশের পোশাক নমুনাটি প্রথম সামরিক বাহিনী হিসেব লিস্টারশায়ার পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছে।
তবে যুক্তরাজ্যের পুলিশ সদস্যদের ইউনিফর্ম হিসেবে হিজাব পরিধান নতুন কোনো বিষয় নয়। এর আগে মেট্রোপলিটন পুলিশ, নর্থইয়র্কশায়ার পুলিশ ও স্কটল্যান্ড পুলিশ নারীদের জন্য বিভিন্ন নমুনার হিজাব ব্যবহার শুরু করে।
লিস্টারশায়ার পুলিশ জানায়, নিউজিল্যান্ড পুলিশের হিজাবের নমুনাটি স্পোর্টস ফ্যাব্রিক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তা পরিধান করে সহজেই চলাচল করা যায়। পাশাপাশি তা খুবই মজবুত এবং শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের জন্য খুবই উপযোগী। আগে আরো কয়েকটি হিজাব পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে তা নিরীক্ষণে টিকেনি।
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম পুলিশের সদস্য ইউসুফ নাগদি বলেন, ‘লিসেস্টারশায়ারে জনগোষ্ঠী হিসেবে আমরা সত্যিই অত্যন্ত বৈচিত্রপূর্ণ। আমরা যে জনগোষ্ঠীকে সেবা দিচ্ছি আমরা তার যথার্থ প্রতিফলন করতে চাই।’
তিনি আরো জানান, ‘মুসলিম জনগোষ্ঠী ও নারীদের জন্য হিজাব ছিল অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। আমরা তা দূর করতে পারছি। আমরা জানি, অনেকে পুলিশে যোগ দিতে চান। কিন্তু তারা নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ব্যাপারে কোনো আপস করতে চান না।’
গত আগস্টে খাদিজা মানসুর পুলিশে যোগদান করেছেন। তিনি হিজাবকে অত্যন্ত আরামদায়ক বলে জানিয়েছেন। এমনকি ঢাকা থাকা অবস্থা প্রশিক্ষণ করেছেন তিনি। হিজাব ইউনিফর্ম হলে অন্যান্য মুসলিম নারীরাও পুলিশে যোগদানে উৎসাহ পাবে বলে জানান এই পুলিশ অফিসার।
আগামী এপ্রিল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড পুলিশের হিজাব নিয়ে বাছ-বিচারের পরিকল্পনা করে লিস্টারশায়ার পুলিশ। তা নির্ধারণ হলে জাতীয়ভাবে পুলিশ সদস্যের ইউনিফর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।




