সিলেটে ত্রিপল মার্ডার, অভিযুক্ত হিফজুর পাঁচ দিনের রিমান্ডে
সিলেট অফিস : সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই শিশু সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে হিফজুর রহমানকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর রোববার পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়াইনঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দিলীপ কান্তি নাথ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
শুনানি শেষে গোয়াইনঘাটের আমলি আদালতের বিচারক অঞ্জন কান্তি দাস পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ বলেন, পুলিশের ধারণা হিফজুরই তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের খুন করেছে। এজন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়।
শনিবার দুপুরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হিফজুরকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে হিফজুরকে সন্দেহ করে আসছিল পুলিশ। বিভিন্ন সময়ে তার কথাবার্তাও ছিল বিভ্রান্তিকর। নিজেকে পাগল প্রমাণের অপচেষ্টার অংশ হিসেবে হিফজুর দাবি করেন- ‘স্বপ্নে দেখে স্ত্রী-সন্তানদের মাছ ভেবে কেটেছেন।’ অবশ্য এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হিফজুরকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দেওয়ার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। গত বুধবার সকালে গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে হিফজুরের স্ত্রী হালিমা বেগম (৩০), ছেলে মিজান (১০) ও তিন বছরের মেয়ে তানিশার লাশ উদ্ধার করা হয়। আগের রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরের বঁটি দিয়ে তাদের কুপিয়ে খুন করা হয়। সে সময় হিফজুরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও শুরু থেকেই তাকে সন্দেহ করে পুলিশ। এজন্য ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ তাকে নজরদারিতে রাখে।
পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হালিমা পাঁচ মাসের গর্ভবতী ছিলেন বলে তথ্য মিলেছে। ফলে তিনজনকে খুনের পাশাপাশি হত্যাকারীর বিরুদ্ধে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগও আনা হবে।
নিজেদের বাড়ির বিছানা থেকে দুই সন্তান ও স্ত্রীর লাশ উদ্ধারের সময় হিফজুর আহত অবস্থায় অজ্ঞানের মতো পড়ে ছিলেন। এটাকে ‘নাটক’ বলে ধারণা করে পুলিশ। ফলে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের হাতে খুনের পাশাপাশি হিফজুরের হাতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্ব দেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিক তদন্ত, হিফজুরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে পুলিশ সেই রাতে বহিরাগত কারও তাদের ঘরে প্রবেশের আলামত পায়নি। এছাড়া বহিরাগত খুনি হলে বাড়ির বঁটি দিয়ে খুন করত না বলে মনে করছে পুলিশ। সব তথ্য-উপাত্ত ও পারিপার্শ্বিক ঘটনায় হিফজুরকে সন্দেহ করে পুলিশ ধারণা করছে খুনের নেপথ্যে ছিল অনৈতিক সম্পর্ক।




