মৌলভীবাজারে ফুটেছে স্বপ্নের নাইট কুইন
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা :

মৌলভীবাজার শহরের পাগুলিয়া আবাসিক এলাকার স্বপ্নীল হাউজে ফুটেছে দুর্লভ প্রজাতির নাইটকুইন ফুল। সারাবিশ্বে পরিচিত ‘নাইট কুইন’ হিসেবে মিষ্টি মেনাহারিণী সুবাস, দুধসাদা, স্নিগ্ধ ও পবিত্র পাপড়ি আর সৌভাগ্যেরপ্রতীক হিসেবে এলেও রাতের রানী সে। কিন্তু যে রাতে নিজেকে মেলে ধরে প্রকৃতির কাছে, সে রাতেই আবার ঝড়ে পরে। এই একটিফুলের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় ফুলপ্রেমীদের। আমাদের দেশে দুর্লভ প্রজাতির ফুল হিসেবেই গণ্য করা হয় ‘ নাইট কুইনকে’।
জানা যায়, গতবছর কভিড ১৯ এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে স্কুল বন্ধ থাকার কারনে শহরের পাগুলিয়া আবাসিক এলাকার স্বপ্নীলহাউজে বাসার ছাদে শখের বশে গাছটি লাগান নবম শ্রেনীর ছাত্র এমদাদ আলম আদিব (১৪) । দীর্ঘ ১বছর তিনি পরিচর্যা করেনগাছটির।
নিজেই তিনি ক্যামেরা বন্দি করলেন ফুল ফোটার দৃশ্য। যারা রাতের রানীর সৌন্দর্যে আর তার ক্ষণ অস্তিত্ব নিয়েই এতদিনজানতেন, তাদের জন্য এই দৃশ্য এক বিরল দৃশ্য বটে।
বিরল ক্যাকটাসের ফুল এ নাইট কুইনের (বৈজ্ঞানিক নাম peniocereus greggii) আদি নিবাস আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল এবংমেক্সিকোতে হলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মিলে এই গাছ। তবে ফুলের দেখা খুব কম মানুষের ভাগ্যেই হয়। তবে সাদারঙের
রাজকীয় আবরনের ফুলটির চির স্নিগ্ধ, শুভ্র-পবিত্র রূপই নাইট কুইনের সৌন্দর্যের মূল রহস্য। তাও আবার সেই রাতেরকয়েক ঘন্টার অন্ধকারেই হয় তার জীবনাবসান।
এক প্রশ্নের জবাবে আদিব জানান, তার দাদা অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা ডা: আব্দুর রউফ এর অনুসরণ করে ও তার পিতাবিশিষ্ট ব্যবসায়ী, ইউ কে বিডি টিভি.কম এর সম্পাদক কাওছারুল আলম রিটন এর অনুপ্রেরনায় তিনি অবসর সময়ে শখের বসে বাসার ছাদে বিভিন্ন ফুল ও ফলমুল এর গাছ রোপন করেন। তার অবসর সময় কাটে এসব গাছ এর পরিচর্যা করে।
নাইট কুইন ফুল ফুটার ব্যাপারে অনুভুতি ব্যক্ত করে আদিব বলেন, আমি সার্থক ফুলটিকে নিজের চোখের সামনে ফুটতে দেখতেপেরে। বিকালের দিকে যখন বাসার ছাদে যাই হঠাৎ গাছটির কলি চোখে পরে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সন্ধ্যার দিকে ফোটে নাইটকুইন। শীঘ্রই আরেকটি ফুল ফুটবে বলে আমি আশাবাদী।
আদিব বলেন, ‘আমার বাগানের যাত্রা শুরু হয়েছিলো আজ থেকে ১ বছর আগে মাত্র একটা ক্যাকটাসের গাছ থেকে। এখনআমার বাগানে অনেক গাছ। আমাদের বাসার ছাদেই আস্তে আস্তে পরিধি পেতে থাকে বাগানটি।
আদিবের বাগানে ক্যাকটাস (Cactaceae), লেবু গাছ, নাগা মরিছ গাছ, গোলাপ ফুল, এলোভেরা গাছ, পেয়ারা গাছ সহ নানা ধরণের ফুল ও ফলের গাছ রয়েছে।
উল্লেখ্য, নাইট কুইন ফুলের প্রথম দর্শন ঘটেছিল দু’হাজার বছর আগে বেথেলহ্যাম নগরীতে। প্রচলিত রয়েছে যিশু খ্রিস্টের জন্মেরসময় নগরীর প্রত্যেক বাড়িতে নাইট কুইন ফুলে ফুলে ছেয়ে যায়। অনেকের কাছে এ ফুলটি বেথেলহ্যামফ্লাওয়ার নামেও পরিচিত।তাছাড়া প্রচলিত ভাবে নাইট কুইনকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করেন অনেকেই।
ভবনের ছাদে ব্যতিক্রমী এ বাগানে প্রচন্ড এ গীষ্মের তাপদহে কোনো গাছে ধরে আছে ফুল, আর কোনো গাছে ধরে আছে বিভিন্নপ্রজাতির ফল। তার বাগান জুড়ে থাকা ফলের হাসি শুধু তাকেই অনুপ্রাণিত করেনি, অনুপ্রাণিত করেছে এলাকার সবশ্রেণিপেশার মানুষকে।




