চীনের ‘সুপারড্যাড’, দত্তক নিয়েছেন ৩০০ শিশুর

Published: 21 April 2026

পোস্ট ডেস্ক :


শত শত অনাথ শিশুর দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। নিজের জীবনকে উৎসর্গ করছেন অনাথ শিশুদের পেছনে। গত তিন দশক ধরে তিনি এই কাজ নিরলসভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই প্রচেষ্টায় অনেক শিশু ইতিমধ্যে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়েছেন। এই ঘটনা চীনের।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ৫২ বছর বয়সী বাই জিয়ান চীনের উত্তরপূর্বাঞ্চলের লিয়াওনিং প্রদেশে মাধ্যমিক স্কুলের ফিজিক্সের শিক্ষক। অন্তত ৩০০ এতিম শিশুকে দত্তক হিসেবে নেয়ায় চীনে তিনি সুপারড্যাড হিসেবে পরিচিত।

অভিভাবকহীন শিশুদের থাকার জন্য জিয়ান বড় জায়গা ভাড়া নিয়েছেন। সেখানে একসঙ্গে ২০ থেকে ৩০ জন শিশু বাস করে। ১৯৯৫ সাল থেকে তার ভাড়া জায়গায় অন্তত ২৭৬ জন শিশু বেড়ে উঠেছে। তিনি এই জায়গার নাম দিয়েছেন স্বপ্নের বাড়ি।

এসব শিশুর অনেকেরই বাবা-মা নেই, আবার অনেককে তাদের বাবা-মা ছেড়ে চলে গেছে। গত কয়েক বছরে জিয়ানের হেফাজতে থাকা অনেক শিশুই বড় হয়ে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে সফল হয়েছে।

কেউ পেশাদার খেলোয়াড় হয়েছেন, কেউ হয়েছেন সেনা, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবার কেউ কেউ হয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, জিয়ানের তত্ত্বাবধানে থাকা শতাধিক শিশু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এ ছাড়া অন্তত ৫০ জন দেশটির ন্যাশনাল স্পোর্টস কর্তৃপক্ষের অধীনে সর্বোচ্চ লেভেল-১ এর খেলোয়াড় হয়েছেন।
লিয়াওনিং প্রদেশের হুলুদাওয়ে এক দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠেন জিয়ান। খেলায় বেশ পারদর্শী হওয়ার কারণে কলেজে ভর্তি হন। এরপর স্নাতক সম্পন্ন করার পর ফিজিক্সের শিক্ষক হিসেবে চাকরি শুরু করেন।

অনাথ শিশুদের দত্তক হিসেবে নেয়ার কারণ হিসেবে জিয়ান জানান, তিনি একদিন তার ক্লাসে দেখেন যে এক শিক্ষার্থী প্রায় স্কুলে আসতো না এবং তার ক্লাসমেটদের কাছে খাবার চেয়ে নিতো।
পরবর্তী সময়ে জিয়ান জানতে পারেন, ওই শিক্ষার্থীর বাবা-মা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। এরপর তিনি নিজের থাকায় জায়গায় ওই শিক্ষার্থীকে আশ্রয় দেন।

একসময় অসহায় এই শিক্ষার্থী জিয়ানকে বাবা ডাকা শুরু করে। এই ডাক শোনার পর থেকেই অনাথ শিশুদের দেখভালের দায়িত্ব নেয়া শুরু করেন জিয়ান।
এত শিশুর দেখাশোনা, থাকার জায়গা ও খাবারের ব্যবস্থা করতে অতিরিক্ত চাকরি শুরু করেন জিয়ান। সেইসঙ্গে তিনি তার মা ও দুই বোনের কাছ থেকেও সাহায্য নেন। এ ছাড়া টাকা লোনও নিতেন তিনি।