জুড়ীতে কৃষকদের মাঝে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ

Published: 29 June 2021

জুড়ী প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে খরিফ-২/২০২১-২০২২ মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে রোপা আমন বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

 

আজ মঙ্গলবার (২৯ শে জুন) দুপুর ১২ টায় উপজেলা সভাকক্ষে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ জসিম উদ্দিন এর পরিচালনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্টিত বিতরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের প্যানেল-১ চেয়ারম্যান রনজিতা শর্মা।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাশ, জুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, কৃষক প্রতিনিধি ভাগ্য সিংহ।

এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৪০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রত্যেককে ৫ কেজি বীজ ও ২০ কেজি করে রাসায়নিক সার প্রদান করা হয়।

 

কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন সভায় জানান,রোপাআমনে প্রথমবারের মতো সরকার ৪০০ জনকে ৫ কেজি বীজ ও ২০ কেজি সার প্রথমবারের মতো রোপাআমনে বিনামূল্যে বীজ দিচ্ছে সরকার। এ বীজ ও সারে প্রায় ৪০০ বিঘা জমি চাষ হবে।
উপজেলার প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেঃ জমিতে আমন চাষ হয়।রোপাআমনে আরও বেশি বরাদ্দ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।সরকার ভবিষ্যতে আরও বরাদ্দ বৃদ্ধি করার আশা ব্যক্ত করি।বীজ ও সার বরাদ্দ বেশি হলে জুড়ী উপজেলায় কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটবে।কৃষি উৎপাদনে উর্বর একটি উপজেলা জুড়ী।পানির অভাবে আউশ মৌসুমে উৎপাদন কম হয়েছে।জ্যাইকা থেকে পানির ব্যবস্হা গ্রহণ করলে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবণা রয়েছে।

 

সভায় উপস্হিত ছিলেন সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুমন, সকালের সময় প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার নাজমুল কায়ছার, সরকারি কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার গোবিন্দ তন্দ্র দে, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মোঃ আজিজুল ইসলাম খান, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার নজরুল ইসলাম, সুরঞ্জিত ধর, রিপন কান্তি দাস, আতিকুর রহমান প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রনজিতা শর্মা বলেন,আমি ১২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি।

আমি একজন কৃষক।৬ শতক জমিতে কচুঁ চাষ করেছি।এ থেকে লতা উৎপাদন হয়েছে প্রচুর।আমি নিজে ভোগ করে অনেককে সৌজন্য উপহার দিয়ে থাকি।আপনারা শুধু ধান চাষ করে বসে থাকবেন না।আপনারা পতিত জমিতে আলু,গাজর, ভুট্রা,সূর্যমুখীর চাষ করতে পারেন।নিজের প্রয়োজনীয়তা শেষে বিক্রি করে আয় করতে পারেন।সরকার বিনামূল্যে বীজ ও সার দিচ্ছে।আপনারা আন্তরিকতার সহিত উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কাজ করে যেতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও সোনিয়া সুলতানা বলেন,বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার।২০১৭ সালে বন্যায় বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানী করতে হয়েছে।এর পর থেকে আমরা নিজেরাই উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিদেশ থেকে আর আমদানী করতে হচ্ছেনা।গতকাল বীজ ও সার আমাদের হাতে পৌছেছে।একদিনের মধ্যে আমরা বীজ ও সারগুলো সম্মানীত কৃষকদের মাঝে পৌছে দিতে পারায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বন,পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। করোনা পরিস্হিতি মোকাবেলায় আপনারা সচেতন থাকবেন।মাস্ক পরিধান করবেন।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সকল উদ্দ্যোগ বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।