কানাইঘাটে বসত ঘর ভাঙচুর: গ্রেফতার ৬

Published: 10 July 2021

কানাইঘাট সংবাদদাতা :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের কাড়াবাল্লা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে গত শুক্রবার বিকেল ৫ টার দিকে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে টিনশেডের বসত ঘর ভাঙচুর করে গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলে কানাইঘাট থানার ওসি তাজুল ইসলাম পিপিএম এর নির্দেশে শনিবার দুপুরে এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ভাঙচুরের ঘটনার নেতৃত্ব দানকারী ছালেহা বেগমসহ তার পরিবারের ৬ জনকে গ্রেফতার করেন। অন্যান্য গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নাজমিন বেগম, নাসির উদ্দিন, সুমি বেগম, সুহাদা বেগম, রহিমা বেগম। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন।

 

এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বসত বাড়ীর জায়গা জমি নিয়ে কাড়াবাল্লা গ্রামের মৃত আব্দুন নুরের স্ত্রী গ্রেফতারকৃত ছালেহা বেগম (৪৫) এর সাথে তার ভাসুর মৃত তবারক আলীর পুত্র মইন উদ্দিন লথু ও ময়নুল গংদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলা বিচারধীন অবস্থায় রয়েছে। কয়েকদিন পূর্বে ছালেহা বেগম বসত বাড়ীর বিরোধপূর্ণ জায়গা থেকে বেশ কয়েকটি গাছ বিক্রি করেন।

 

যারা গাছ কিনেছেন তারা গাছ কাটতে আসলে এতে বাধা প্রদান করেন ছালেহা বেগমের ভাসুর মইন উদ্দিন লথু ও ময়নুল গংরা। আপাতত গাছ না কাঠার জন্য বিষয়টি সামাজিক সালিশের মাধ্যমে সমাধান করে দিবেন বলে এলাকার মুরব্বীয়ানরা উদ্যোগ নেন। এর জের ধরে গত শুক্রবার বিকেল অনুমান ৫ টার দিকে ছালেহা বেগম তার ছেলে-মেয়ে সহ পরিবারের লোকজন হঠাৎ করে হাতে দা ও লাঠিসোট নিয়ে ভাসুর মইন উদ্দিনের ঘর ভাংচুর শুরু করলে প্রাণের ভয়ে বসত ঘর থেকে বের হয়ে যান তিনি। এ অনেকের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেননি।

 

তবে ভাঙচুরের পুরো দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকটি আইডি থেকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয় এবং পুরো এলাকা জুড়ে তোলাপাড় সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ বসত ঘরের মালিক মইন উদ্দিন লথু বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় শনিবার সকালে ছালেহা বেগম সহ তার পরিবারের লোকজনদের আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছেন ছালেহা বেগম। মামলার ভয়ে তার বিরুদ্ধে এলাকায় কেউ কথা বলতে সাহস পাননা।