মুজিব জন্মশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার
মুজিব জন্মশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার
জুড়ীতে ১৭৬ অসহায় পরিবারের পাকাঘর যেন স্বপ্নের বাস্তব রূপ
আব্দুর রব, বড়লেখা :

মৌলভীবাজারের জুড়ীর সহায় সম্বলহীন ১৭৬ পরিবারের পাওয়া সরকারী পাকাঘর যেন তাদের স্বপ্নের বাস্তব রূপ। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রকল্প প্রথম পর্যায় ও আশ্রয়ন প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ভুমিহীন হতদরিদ্রদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের এসব পাকাঘর তৈরী করে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের উপকারভোগী বিধবা সুলেখা রাণী বিশ্বাস। তার না ছিল নিজস্ব ভুমি, না ছিল থাকার ঘর। স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তানসহ মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। যেখানে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খাওয়াই দুঃসাধ্য, সেখানে পাকার ঘওে বসবাস তার কাছে দুঃস্বপ্নই ছিল। সুলেখার মত উপজেলার অনেকেরই ছিল না মাথা গোঁজার ঠাঁই। সেখানে ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পিআইও খোজে এনে খাস জমি লিখে দিয়ে পাকা ঘর তৈরী করে দিবেন কখনও কল্পনাও করেননি। সুলেখা রাণী বিশ্বাস জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর দু’চোখে ছিল শুধুই দুঃস্বপ্নের ছাপ। এখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঘর দিয়েছেন। স্বপ্নেও ভাবিনি পাকা ঘরে থাকবো। প্রধানমন্ত্রী পাকাঘর উপহার দেওয়ায় এখন নিজের বাড়িতে অন্তত শান্তিতে মরতে পারব।
অসহায় ও হতদরিদ্রদের জন্য এসব ঘর স্বপ্নের মত। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাকাঘর পেয়ে আবেগাপ্লত ও উচ্ছ্বসিত হয়েছেন এসব পরিবারের সদস্যরা। ইটের তৈরি পাকাঘর ও চালে রঙিন ঢেউটিন যেন দূর থেকে স্বপ্নের এক নীড়ের প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘদিন যাদের থাকার ছিলনা কোন নিজস্ব ঘর, তারা এসব ঘর পেয়ে সত্যিই আনন্দিত।
স্বপ্নের ঘর পাওয়া রিতা রানী বিশ্বাসের স্বামী মানসিক রোগী হওয়ার কারণে ছিল না তেমন কোনো আয় রোজগার। স্বামীর আয় রোজগার না থাকায় রিতা বিশ্বাস বেতের কুটির শিল্পের কাজেই কোনমতে চলত সংসার। নিজের পরিবারের করুণ অসহায়ত্বের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ভুমি ও ঘর পেয়ে তিনি দারুণ খুশি। রিতা বিশ্বাস বলেন, তেমন আয় রোজগার না থাকায় কোনমতে চলছিল সংসার। এখন প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়ে আমার পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় আশ্রয়ন প্রকল্প-২ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৬৯টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছে ৭ টি ভূমিহীন পরিবার। দ্বিতীয় পর্যায়ে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে জায়ফরনগরে ৭ টি, পশ্চিম জুড়ীতে ৫৩ টি, পূর্বজুড়ীতে ৬৩টি, গোয়ালবাড়ীতে ৪৬টিসহ সর্বমোট ১৬৯ টি ভূমিহীন পরিবারকে ঘর তৈরী করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, আশ্রয়ন প্রকল্পের প্রতিটি ঘরে দুইটি বেডরুম, একটি বাথরুম, একটি রান্নাঘরসহ পানি ও বিদ্যুতের সুবিধা রয়েছে। আশ্রয়ন প্রকল্প-২ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৬৯টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
ইউএনও সোনিয়া সুলতানা জানান, ‘আশ্রয়নের অধিকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার’ হিসেবে জুড়ীর ৬ ইউনিয়নের ১৭৬ জন অসহায় ও হতদরিদ্র উপকারভোগীর স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত এসব ঘরের টেকশই নির্মাণে তিনিসহ উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কড়া নজরদারী করেছেন। এজন্য ঘরগুলো মানসম্পন্ন হয়েছে।




