জুড়ীতে আবারো সেই ধাত্রীর অবহেলায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যু

Published: 1 August 2021

মোঃ তাজুল ইসলাম :

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ধাত্রী জুলেখার অবহেলায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যু অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জুড়ী উপজেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায় উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম শিলুয়া গ্রামের মোহাম্মদ শামসুদ্দিন এর ছেলে জয়নুল ইসলামের স্ত্রী সন্তান সম্ভবা রুনা বেগম এর সন্তান প্রসবের ব্যথা উঠলে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ডাক্তারি জুলেখা বেগম চার টাকার বিনিময়ে প্রসূতির বাড়িতে যান। সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত সন্তান প্রসব হয়েনি। এসময় প্রসূতির স্বামীর জয়নুল ইসলাম বারবার তার স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ধাত্রী জুলেখা বেগম কর্ণপাত করেননি বরণ তাকে ধমক দিয়ে বলেন হাজার হাজার স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করলাম এটা কোন বিষয় নয়। বাড়িতে হবে তবে একটু দেরি হবে। শুক্রবার ভোরবেলা একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয় আমার বাড়িতে আমার সন্তানকে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে না পারলেও দাত্রী বাচ্চার পেটে এবং বুকে অনেক চাপাচাপির পর বাচ্চাটি একটু শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে পরে পরিবারের লোকজন ধাত্রী জুলেখাকে বারবার বলার চেষ্টা করেন। আমার স্ত্রী আস্তে আস্তে শরীল সাদা হয়ে যাচ্ছে অবস্থা বেগতিক দেখে ধাত্রী আমার মা এবং শাশুড়ি কে বলে বিশ্বের কয়েকটি ইনজেকশন ও স্যালাইন দিতে হবে দিতে হবে। আমি লিখে দিচ্ছি বাজারের পোস্ট অফিসে সড়কে একটি ফার্মেসি খোলা আছে সেখানে পাওয়া যাবে বলে আমার সাথে চলে আসেন। ওষুধ গুলো নিয়ে গিয়ে দেখি আমার স্ত্রীর অবস্থা খুবই খারাপ পরবর্তীতে আমি জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার স্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। আমার সন্তান বেঁচে থাকলে আমি তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠিয়ে দেই সেখানে তার মৃত্যু হয়। যার কারণে আমার স্ত্রী এবং সন্তানের মৃত্যু হয়েছে আমি তার বিচার চাই। ইতিপূর্বে জুড়ী উপজেলার বেলাগাও, জাঙ্গীরাই,নয়াগ্রাম,মন্ত্রীগাও গোয়ালবাড়ী, সাগরনাল, সমাই, জামালপুর,জাঙ্গালিয়া সহ শতাধিক মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে ধাত্রী জুলেখার অবহেলায় দুই-একটি ঘটনায় প্রশাসন তদন্ত করলেও অর্থের বিনিময় উক্ত ঘটনাগুলো রফাদফা হয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা জানান, সে এ উপজেলার বাসিন্দা নয় আমাদের উপজেলার মাতৃমৃত্যুর হার তার কারণে বাড়ছে এর দায় আমাদেরকে দায় নিতে হচ্ছে, অথচ স্বাস্থ্য বিভাগকে ম্যানেজ করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ধাত্রী জুলেখা বেগমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, হাজার হাজার স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করালে পাঁচ-দশটা সমস্যাতো হতে পারে নিয়ে হৈচৈ করছেন কেন আপনারা। এর আগেও তো আপনারা পত্রিকায় লিখেছেন আমার বিরুদ্ধে কি হয়েছে আর কি করতে পারবেন। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার সমরজিৎ সিংহের সাথে যোগাযোগ করলে, তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তিনি বলেন পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। প্রতিবার তার এমন দায়সাড়া বক্তব্য কোনভাবে কাম্য নয়,এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছেন এলাকাবাসী।