জুড়ীর ভোগতেরা কমিউনিটি ক্লিনিক আস্থা বাড়াচ্ছে প্রসুতিদের

Published: 11 August 2021

মোঃ তাজুল ইসলাম, জুড়ী থেকে :

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ভোগতেরা কমিউনিটি ক্লিনিক হাজারতম স্বাভাবিক প্রসবের রেকর্ড গড়েছে। গ্রামের ভেতরের ছোট্ট এই কমিউনিটি ক্লিনিকে ৯ বছর ধরে বিনা খরচে স্বাভাবিক প্রসব কার্যক্রম চলছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, স্বাভাবিক প্রসবে সিলেট বিভাগে ক্লিনিকটি প্রথম স্থানে রয়েছে।
পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার খাদিজা আক্তারের (২৫) বিয়ে হয়েছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় কয়েক মাস আগে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। প্রসবব্যথা ওঠায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে স্বজনেরা তাঁকে ভোগতেরা কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। ক্লিনিকের বেসরকারি সিএসবিএ লিপা খানমের সহায়তায় ৯টা ২০ মিনিটে খাদিজার একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। এটি তাঁর দ্বিতীয় সন্তান। এর মাধ্যমে ক্লিনিকে হাজার তম স্বাভাবিক প্রসবের রেকর্ড হয়।
সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভোগতেরা কমিউনিটি ক্লিনিকে সকালের দিকে দেখা যায়,খাদিজা ও তাঁর স্বজনদের খুশির শেষ নেই। হাজার তম স্বাভাবিক প্রসবের খবর পেয়ে ছুটে যান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সমরজিৎ সিংহ, চিকিৎসা কর্মকর্তা শহিদুল আমিন ও ক্লিনিক পরিচালনা কমিটির কয়েক সদস্য। সেখানে প্রসূতির স্বজনদের পক্ষ থেকে তাঁদের মিষ্টিমুখ করানো হয়
প্রসবকর্মী লিপা খানমের বাড়িও ভোগতেরা গ্রামে। তিনি বলেন, প্রসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০১৪ সালের জুনে তিনি এ ক্লিনিকে যোগ দেন। তাঁর হাতে এ পর্যন্ত ৭৪৮ শিশুর প্রসব হয়েছে। তবে এ কাজের বিনিময়ে তিনি কোনো পারিশ্রমিক পান না।
ক্লিনিকের সিএইচসিপি হানিফুল ইসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও যাত্রা শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মইনুল ইসলাম ক্লিনিকের জমি দান করেন। ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি সেখানে প্রথম স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে শিশুর জন্ম হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে সেই সংখ্যা বাড়তে থাকে। শুধু জুড়ী নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও এখানে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা নারীরা সেবা নিতে আসেন। ক্লিনিকে জন্ম নেওয়া হাজার শিশুর মধ্যে ৫৪০ জন মেয়ে ও ৪৬৭ জন ছেলে। এর মধ্যে যমজ আছে সাতজন। আজ ক্লিনিকের সফলতা দেখতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া সুলতানা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:সমরজিৎ সিংহ,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রঞ্জিত শর্মা, ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস, সদর জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা। উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, স্বাভাবিক প্রসবের জন্য একটি টেবিল কিনে দেওয়া হবে, ক্লিনিকের সামনে টিনসেড একটি বারান্দা নির্মাণ করা হবে। রোগীর সাথে আসার লোকেরা যেন সেখানে বসতে পারে, ক্লিনিকের মাঠ ভরাট সহ উন্নয়নমূলক কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, এই কমিউনিটি ক্লিনিকটি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ক্লিনিকের মধ্যে অন্যতম এর সুনাম রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, এই ক্লিনিকের আসবাবপত্রসহ একটি ফ্রিজ ক্রয় করে দিয়েছি সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। আরো কিছু করার থাকলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। এই কমিউনিটি ক্লিনিক দেশের সেরা হিসাবে জুড়ী উপজেলাকে সম্মানিত করেছে। ক্লিনিক স্বাস্থ্য সেবাকর্মী ও প্রসবকর্মী সকলকে ধন্যবাদ জানাই। অতীতের সফলতা ভবিষ্যতের জন্য ধারাবাহিকতাকে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি।