জুড়ীতে চা শ্রমিকদের তালিকা নিয়ে পাল্টা অভিযোগ

Published: 14 September 2021, 11:44 AM

জুড়ী প্রতিনিধি :


জুড়ীতে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দের তালিকা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হওয়ায় মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কাপনাপাহাড় চা বাগান পন্ঞ্চায়েত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অজন্তি বাউরী পাল্টা অভিযোগ করেন।

লিখিত এক অভিযোগে জানা যায়,গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম অধিদপ্তর কর্তৃক গত ২৪ শে আগষ্ট ২০২১ ইং তারিখের এক পত্রে বর্তমান সভাপতি প্রমেশ বাউরী বয়স জনিত কারণে অবসর গ্রহণ করেছেন।বিধি মোতাবেক অবসরকালীন কোনো শ্রমিক বাগান পন্ঞ্চায়েত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ নেই এবং পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সহ সভাপতি পদাধিকার বলে দায়িত্ব পালন করবেন।

আজ মঙ্গলবার (১৪ ই সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে কাপনাপাহাড় চা বাগান পন্ঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ এক সংবাদ সম্মেলন করে সদ্য অবসরে যাওয়া প্রমেশ বাউরী সভাপতি দাবীর প্রতিবাদ করেন।
অভিযোগে জানা যায়,প্রমেশ বাউরী পন্ঞ্চায়েত কমিটির নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।কিন্তু ইতিমধ্যে অবসরে যাওয়ায় তার আর কোনো স্বাভাবিক দায়িত্ব না থাকায় তিনি দেউলিয়া হয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করে বাগানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে চাচ্ছে।তিনি সভাপতি থাকাকালিন সময়ে বিগত দিনে শ্রমিকের অনেক টাকা পয়সা আত্বসাৎ করেছেন।বিগত দিনে তিনি একক ক্ষমতাবলে জীবনমান উন্নয়নের তালিকা তৈরীকালে শ্রমিকের নিকট থেকে জনপ্রতি ৩০০/৪০০ টাকা করে আদায় করে বিধি লংঘন করে একই পরিবারের ৩/৪ কে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে খাদ্য সহায়তা, ভিজিডি,বয়স্ক ভাতা,বিধবা ভাতা,প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্ত শ্রমিকের মাঝে বন্টন করেন।
তিনি চলতি বছর উক্ত তালিকা নিজেকে সভাপতি দাবী করে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তার অবৈধ তালিকা গ্রহণ না করায় তিনি গত ১১ ই সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা অভিযোগ করেন।আমরা তার অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানাই।
প্রমেশ বাউরীর অপকর্মের কাহিনী বলে শেষ করা যাবে না।সে গত ২ রা আগষ্ট ২০১৯ ইং তারিখ বাগানের মুরব্বীদের এক বৈঠকে লিখিত আকারে ভবিষ্যতে সরকারি অনুদানের তালিকা সকলের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি করবে বলে স্বীকারোক্তি প্রদান করে।গত ১২ ই জুলাই২০১৯ ইং তারিখে বাগানের শ্রমিক ফান্ডের হিসাবে ১০৪৫০০/ টাকার গরমিল দেখা দিলে সে দুই মাসের সময় নিয়ে ২২ হাজার টাকা তহবিলে জমা দেয়।আজ পর্যন্ত বাকি টাকার হিসাব দিতে পারে নাই।সে পন্ঞ্চায়েত কমিটির ও মুরব্বীদের কোনো কথা কর্ণপাত করে না।সে বর্তমানে সাধারণ চা শ্রমিক নয়।নিজেকে সভাপতি দাবী করে গণমাধ্যমে যে অভিযোগ করেছে, তাহা সম্পুর্ণ অবৈধ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পন্ঞ্চায়েত কমিটির অর্থ সম্পাদক নিরেন চন্দ্র বুনার্জী, সদস্য শুকরাম রিকমন,বিশ্বজিৎ বুনার্জী, সন্জয় চাষা,খোকন কৃষ্ণ গোয়ালা,বিমলা বুনার্জী, আলোমতি বাউড়ী,অন্যদা চাষা,মুরব্বিদের মধ্যে ছিলেন শুদাম গোয়ালা,রনজিত চাষা দিগেন্দ্র চাষা,রতন রিকমন,গোপাল বার্মা, বাবুল চাষা বিশ্বময় চাষা,রাদেশ্বাম পাশি,দিরেন্দ্র বুনার্জী প্রমূখ।

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares