বর্ষসেরা ক্রিকেটারের তালিকায় আফ্রিদি-রিজওয়ান, কেউ নেই ভারতের
পোস্ট ডেস্ক :

পারফরম্যান্সের বিচারে কে হচ্ছেন ২০২১ সালের সেরা ক্রিকেটার। চার জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। যাতে পাকিস্তানের দু’জন থাকলেও ভারতের কেউই জায়গা পাননি। ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি: আইসিসি মেনস ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান ও শাহীন শাহ আফ্রিদি, নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন এবং ইংল্যান্ডের জো রুট। ম্যাচজয়ী ইনিংস, দুর্দান্ত স্পেল, অতিমানবীয় পারফরম্যান্স এবং অনবদ্য নেতৃত্ব- মনোনীতদের এই চারটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।
দেখে নেয়া যাক ২০২১ সালটা কেমন কেটেছে এই চার ক্রিকেটারের।
মোহাম্মদ রিজওয়ান
৪৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৯১৫ রান। গড় ৫৬.৩২। সেঞ্চুরি ২টি। ৫৬ ডিসমিসাল।
স্মরণীয় ইনিংস ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৭৯* রান।
স্বপ্নের মতোই একটা বছর কাটলো পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রিজওয়ানের। এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বাধিক টি-টোয়েন্টি রানের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। ২৯ টি-টোয়েন্টিতে ৭৩.৬৬ গড়ে রিজওয়ানের সংগ্রহ ১৩২৬ রান। স্ট্রাইকরেট ১৩৪.৮৯। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে এক বছরে ১০০০ রানের কৃতিত্ব তার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২৮১ রান নিয়ে হন টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রহক। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বুকের সমস্যা নিয়েও ৬৭ রানের ইনিংস খেলে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ান রিজওয়ান। সাদা পোশাকেও ছিলেন উজ্জ্বল। ৯ টেস্টে ৪৫.৫০ গড়ে করেছেন ৪৫৫ রান।
শাহীন আফ্রিদি
৩৬ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৬ উইকেট। গড় ২২.২০। সেরা বোলিং ৬/৫১। স্মরণীয় স্পেল ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩১/৩।
২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সেরা বোলার ছিলেন শাহীন আফ্রিদি। ২১ ম্যাচে নেন ২৩ উইকেট। বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে নিয়ে যান সেমিফাইনালে। তার এক স্পেলেই ধসে যায় ভারতের ব্যাটিং লাইন। ম্যাচের পর ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি স্বীকার করেন শাহীনের ওই স্পেলের কারণেই ২০-৩০ রান কম যোগ হয় ভারতের স্কোরবোর্ডে। যেটি দিনশেষে গড়ে দেয় ব্যবধান। ২০২১ সালে সাদা পোশাকেও শাহীন ছিলেন বিধ্বংসী। মাত্র ৯ টেস্টে ১৭.০৬ গড়ে ৪৭ উইকেট নেন এই পেসার।
কেন উইলিয়ামসন
১৬ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৬৯৩ রান। গড় ৪৩.৩১। সেঞ্চুরি একটি। স্মরণীয় ইনিংস টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮৫ রান।
টানা দুটো বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়েও দলকে ট্রফি এনে দিতে পারেননি নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। তবে আক্ষেপ ঘুচেছে সাদা পোশাকে। তার নেতৃত্বেই ভারতকে হারিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট জেতে নিউজিল্যান্ড। যদিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায় কিউইরা। তবুও উইলিয়ামসন ও নিউজিল্যান্ডের জন্য বছরটা রঙিনই ছিল।
জো রুট
১৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৮৫৫ রান। গড় ৫৮.৩৭। সেঞ্চুরি ৬টি। স্মরণীয় ইনিংস ২১৮, ভারতের বিপক্ষে চেন্নাই টেস্টে।
টেস্ট ক্রিকেটে কী অসাধারণ একটা বছরই না কাটলো ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুটের। আরেকটু ভালো হলে পাকিস্তানের মোহাম্মদ ইউসুফের এক পঞ্জিকাবর্ষে করা সর্বাধিক টেস্ট রানের রেকর্ডটাও ভেঙে দিতেন রুট। বছর শুরু করেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে ২২৮ রানের ম্যারাথন ইনিংসে। চেন্নাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ভারতের বিপক্ষে ২১৮ রানের আরেকটি অসাধারণ ইনিংসও উপহার দেন রুট। ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে ফিরতি সিরিজেও তিনটি সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। শীর্ষে ওঠেন টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের। তবে মারনাস লাবুশেনের কাছে শেষতক শীর্ষস্থানটা খুইয়েছেন রুট। আর বছরজুড়ে ইংল্যান্ডের বাজে দলীয় পারফরম্যান্সও কিছুটা ম্লান করেছে রুটের অর্জনকে।




