পাই কী বিজ্ঞানীরা এখনও শেষ পাই দশমিক আবিষ্কার করতে পারেন নি

Published: 23 March 2022, 2:11 AM

শফি আহমেদ 

চৌদ্ধ সাবানের দিবা গত রাত যা চন্দ্র মাস অনুযায়ী সাবান মাসের পনের রজনী রাত বা লাইলাতুল নিফস মিন সাবান অর্থাৎ সাবান মাসের মধ্যে রজনী। এবিষয়ে একটি প্রবন্ধ লিখতে আমি পাই উল্লেখ করি। এটি পড়ে কেহ কেহ পাই কি তা জানতে চাইলেন। তাই এবিষয়ে কলম ধরলাম।

 

লক্ষণীয় বিষয় হল প্রতি বৎসর চৌদ্ধ মার্চ পাই দিবস পালন করা হয়ে থাকে। পাই এর ৩.১৪ প্রথম তিনটি সংখ্যা অনুযায়ী। বলা যায় শুরুতেই আমরা একটি অভিনব কাকতালীয় চমক দেখলাম। লাইলাতুল নিফস মিন সাবান পুন্য রাত হচ্চে সাবানের মধ্যে রজনী। আমাদের আলোচ্য বিষয় পাই দিবস বৃস্তিত হয় মার্চ মাসের মধ্যে রাতে। বিজ্ঞান মধ্যতার সাথে খুবি পরিচিত। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা মতে গতি একটি মেডিয়ান লেন বা মধ্যে রেখায় চলমান যার ব্যপ্তি গোল্ডেন রেশিওতে বিস্তীর্ণ হতে দেখা যায়।

 

পাই হল একটি গাণিতিক ধ্রুবক যা একটি বৃত্তের পরিধি এবং তার ব্যাসের অনুপাত। পাই এখন পর্যন্ত গণনা করা সবচেয়ে সঠিক সংখ্যা যা বহু শতাব্দী ধরে পরিচিত এবং ব্যবহৃত হয়েছে এবং এটি গণিত এবং প্রকৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা হিসাবে অব্যাহত রয়েছে। ইহা একটি রহস্যময় এবং গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা তা যত বার অংক করা হয় তত নতুন দশমিক সংখ্যা আবিষ্কৃত হয়। একজন জাপানি বিজ্ঞানী ট্রিলিওনের চেয়েও অধিক দশমিক সংখ্যা আবিষ্কার করেছেন বলে জানা যায়।

Pi বিভিন্ন চিহ্নর মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়। জনপ্রিয় প্রতীকের মধ্যে রয়েছে গ্রীক অক্ষর ফি (Φ), π-এর গাণিতিক প্রতীক এবং আরবি সংখ্যা “1।”

 

বলা হয় পাই প্রথম গণনা করেছিলেন আর্কিমিডিস খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে। গণিতবিদদের জন্য “৩” সংখ্যাটির বিশেষ অর্থ রয়েছে কারণ এটি “pi” শব্দের প্রথম তিনটি অক্ষর। পাই হল গণিত এবং বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এর তাৎপর্য যা কেবল বাড়তে থাকে। কারণ অনেক কিছু। এটি গণিতের একটি মৌলিক সংখ্যা। এমন একটি সংখ্যা যা গণনা করা খুব কঠিন। আমরা এখানে দু একটি চিত্র দেখবো। প্রথমত এটি একটি খুব ছোট সংখ্যা যা বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পাই একটি বৃত্তের পরিধি, দুটি বিন্দুর মধ্যে দূরত্ব এবং আরও অনেক কিছু গণনা করতে ব্যবহৃত হয়।

 

সমস্যা সমাধানে সাহায্য করার জন্য পাই গণিতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি একটি ধ্রুবক যা পরিবর্তন করা যায় না। এর অর্থ হল pi সর্বদা একই থাকে, সময়কাল যতই দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত হোক। ইহা অন্যান্য গাণিতিক ধ্রুবক খুঁজে বের করতে, সেইসাথে সমীকরণ সমাধান করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্রিপ্টোগ্রাফি এবং অন্যান্য গণনার ক্ষেত্রেও পাই ব্যবহার করা হয়েছে।

 

পাই কীভাবে রহস্যবাদের সাথে সম্পর্কিত তার একটি উদাহরণ হল সংখ্যার দিক থেকে এবং আধ্যাত্মিকতার সাথে তাদের সম্পর্ক। পাইকে আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতা এবং ঐক্যের প্রতীক হিসাবে দেখা হয়েছে কারণ এটি একটি অসীম সংখ্যা যা উভয় মাত্রায় (অভ্যন্তরীণ এবং বাইরের) বিদ্যমান।

 

এটি অসীমতার প্রতীক হিসাবেও ব্যবহৃত হয়েছে। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে পাই এর ধর্মীয় এবং রহস্যময় তাত্পর্য রয়েছে। কেউ কেউ বলেন যে পাই জীবন ও মৃত্যুর শাশ্বত চক্রের প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যরা বিশ্বাস করেন যে পাই কেবল একটি আকর্ষণীয় সংখ্যা যা আবিষ্কারের অপেক্ষায় অনেক গোপনীয়তা রয়েছে। ঘটনা যাই হোক না কেন, এটা স্পষ্ট যে পাই জীবন এবং এর অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে বিশেষ ভমিকা রাখে।

 

এই গাণিতিক ধ্রুবকটি যা অনেক গণনায় ব্যবহৃত হয়েছে এবং এই অর্থে নিখুঁত বলে পরিচিত যে এটি অন্য কোনো সংখ্যা দ্বারা ভাগ করা যায় না। এই নিখুঁততা পাইকে পূর্ণতা, অসীমতা এবং মহান মাত্রার অন্যান্য ধারণাকে প্রতীকী করে তুলেছে।

 

এতক্ষনে আমাদের সামনে পাই চিত্রটা হয়তো পরিষ্কার হয়ে গেছে। এর অবস্থান শধু গণিতের কাশবনে সীমাবদ্ধ নয়। তা বিজ্ঞানের গভীর অরণ্যে বয়ে যাওয়া ঝর্ণা। এই গাণিতীক ঝর্ণার ঝরে পড়া অবিরাম দশমিক নতুন ছড়া তৈরি করে বয়েই চলেছে। আমরা অবিরাম পথ চলে বেশুমার ঝিরিপথ ও ছড়ার কাদামাটি হেঁটে অবশেষে সিলেটে অবস্থিত বাংলার গহীন অরণ্যে তলার ঝর্ণা রূপসী হামহাম এর মত জলপ্রপাতে পৌঁছে যেতে পারি। কিন্তু সেই প্রাচীন কালের শতচেনা পাই ঝর্ণা তলায় আজ পর্যন্ত কোনও বিজ্ঞানী পৌঁছতে পারেন নি।

 

কেন? সব কেনর জবাব মিলেনা। পাই ইহার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমি সাধারণত বিজ্ঞান বিষয়ক কবিতা ইংরেজিতে লেখি। আলহামদুলিল্লাহ, পাই নিয়ে আমার একটি বাংলা কবিতা রয়েছে। আপনি পড়েন, সমগ্র বাংলা সাহিত্যে এমন আরো কিছু কবিতা পেলে আমাকে পড়তে জানান।

আমি অরুন প্রাতের প্রথম ফুল তুলে আপনাকেই দিব গাঁথে কৃতজ্ঞতার নিধি।

 

মহা মানবী

আঁচলে তুলি মায়াবী কাজল কালো ধরণী

আলতো আলো উজল নীলা জোছনা

ঝরুক কিবা না চাঁদের হাত ধরি।

অবশেষে সব আলোর নৃত্য ক্যানভাস ছাড়ি

সুদূর তেপান্তরে যাবে যামিনী।

 

ওই যে ছায়াতীরে একা আঁধারি

হয়নি উদয় সেথা কোন অরুণ রবি

কোন আলো কোনা সেজে ফুটা হয়নি।

চাঁদের তলে চির অধরা কাজল জলে ডুবি

একাই দিছে পাড়ি দিঘল নিশি কালো জলপরী।

 

কা’বা গৃহে কালো সায়র কিসওয়া

কিনারে বিনি সুতায় বাঁধা সাদা মুকুতা

জমজম ঝর্ণা নির্ঝরের মতই সদা

বহমান জল কালের ছাপমুক্ত শ্রী

সময়ে ক্ষয়মুক্ত টেকসই চিরন্তনী।

 

ছোট্ট কুহর জমজম ঝর্ণা ঝিড়ি

কালের অবিরল বৃত্তে অনি:শেষ ছড়া

আর ওপারে বাঁধ ভাঙ্গা আকুল জলধি

একফোটা জলে বাঁধা আজব বিনুনি

বাঁধিলেন দু’গাছি কেশে যে মহা মানবী

তাঁরই সুরম্য নয়নার সুরমা ছায় পড়ি

বাঁধভাঙা নিখুঁত Pi অধরা আজোবধি।

 

চিরতরুণ ধরিত্রীর হৃদয় কুসুমে না শিশির জলে

না আকাশের গুম্বুজে শুধু তাঁর দুটি চুলে।

ওই কালো ছায়া কৃষ্ণ কেশের হিজাব খুলে

রঙ ফোটাবে সে সাধ্য নেই চন্দা কিম্বা সুরুজে।