বড়লেখায় উন্মুক্ত বাছাইয়ের সুফল পেলেন অর্ধশতাধিত শতবর্ষী

Published: 24 March 2021, 11:31 AM

আব্দুর রব, বড়লেখা : বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২০১৯-২০ অর্থবছরে উন্মুক্ত ভাতাভোগী বাছাইয়ের ফলে বয়স্ক ভাতাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পেলেন ৫০ জন হত-দরিদ্র শতবর্ষী বৃদ্ধ-বৃদ্ধা।

যারা বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ধর্না দিয়েও ভাতাভুক্ত হতে পারেননি। অনলাইন ডাটা ভেরিফিকেশন কার্যক্রমে ধরা পড়ে বয়স জালিয়াতি করে দীর্ঘদিন ধরে ৮৩৪ ব্যক্তি বয়স্ক ভাতা নিচ্ছেন। এদেরসহ অন্যান্য ১৫০৮ জন অবৈধ ও অযোগ্য ভাতাভোগীকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে তদস্থলে নতুন ও বঞ্চিতদের প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে উক্ত অর্থবছরে ৩৮৭১ জন নারী-পুরুষ বয়স্ক ভাতার আওতায় আসলেন।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রথমবাবের মতো বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্দ্বী ভাতাভোগীদের উন্মুক্ত বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। এতে ৫ সহস্রাধিক ভাতা প্রত্যাশী আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ভাতা প্রত্যাশীর ইউনিয়ন ভিত্তিক অগ্রাধিকার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। এসময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ৫০ জন শতবর্ষী হতদরিদ্র বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে বয়স্ক ভাতাভুক্ত করা হয়। যারা বছরের পর বছর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট ধর্না দিয়েও ভাতাভুক্ত হতে পারেননি। এছাড়া পুরাতন বয়স্ক ভাতাভোগীদের অনলাইন ডাটা ভেরিফিকেশনে বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ৮৩৪ জন ভাতা গ্রহণকারীর ভাতা বাতিল করা হয়েছে।

উন্মুক্ত বাছাইয়ে ভাতাভুক্ত শতবর্ষী উপজেলার কেছরীগুল গ্রামের হাবিব আলী, পানিশাইল গ্রামের হারিছুন নেছা, সুজাউল গ্রামের রবজান বিবি, হাসিমপুর গ্রামের ছুরতুন নেছা, তালিমপুর গ্রামের আব্দুল হাছিব, কলারতলী পারের মুদরিছ আলী প্রমুখ জানান, ‘গত ২০-৩০ বছর ধরে ভাতার জন্য মেম্বার/চেয়ারম্যানের কাছে অনেকবার গিয়েছি। বারবারই তারা আশ্বাস দিয়েছেন, হয়রানী করেছেন, কিন্তু ভাতায় নাম দেননি। গত বছর টিএনও স্যার ও সমাজসেবা স্যার ইউনিয়নে আসিয়া আমাদেরকে ভাতাভুক্ত করেছেন। এরপর একবার ৩ হাজার ও আরেকবার ১৫০০ টাকা পেয়েছি। আল্লাহ তাদের ভালো করুক।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ইউএনও মো. শামীম আল ইমরানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ভাতাভোগীদের উন্মুক্ত বাছাইয়ের পাশাপাশি শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করি। এতে ১৫০৮ জন ভাতাভোগীকে বয়স জালিয়াতিসহ নীতিমালা বহির্ভূত বিভিন্ন কারণে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এর ফলে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ একটি একক অর্থবছরে শতাধিক অশীতিপরসহ ৩৮৭১ জন হতদরিদ্র মানুষকে ভাতার আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।