কমলো প্রবাসী আয়

Published: 1 June 2022, 4:20 PM

পোস্ট ডেস্ক :


ডলারের সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদরা বলে আসছিলেন, এতে প্রবাসী আয়ে ভাটা পড়তে পারে। ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও অস্থিরতা কমেনি। এছাড়া প্রবাসী আয়ে যাতে এর প্রভাব না পড়ে সেজন্য রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহ দিয়ে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই খবর এলো রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, সদ্য সমাপ্ত মে মাসে ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের মাসের চেয়ে ১২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার কম। এই অংক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ কোটি ৫৭ লাখ ডলার কম। ফলে ১৩ শতাংশ কমলো প্রবাসী আয়। বুধবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গেল মে মাসে ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৯ টাকা) এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা।

এ অংক আগের মাসের চেয়ে প্রায় ১২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার কম। গত এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০১ কোটি ৮ লাখ ডলার। একইসঙ্গে আগের বছরের মে মাসের তুলনায় ২৮ কোটি ৫৭ লাখ ডলার কম। গত বছর মে মাসে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।
রেমিট্যান্স পাঠানোর পথ সহজ করতে গত ২৩শে মে সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে পাঁচ হাজার ডলারের ওপরে বা ৫ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্স এলেও কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই প্রণোদনা পাওয়ার কথা জানানো হয়। আগে পাঁচ হাজার ডলারের বেশি রেমিট্যান্সের বৈধ কাগজপত্র জমা দেয়া বাধ্যবাধকতা ছিল। তারপরও কমেছে রেমিট্যান্স প্রবাহ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, মে মাসে ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮ কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৬ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার। দু’টি বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে একটিতে এসেছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগে সব সময় বেশি রেমিট্যান্স আসে। কারণ প্রবাসীরা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের খরচের জন্য বেশি অর্থ পাঠায়। গেল মাসে একটু কম এসেছে। আগামী মাসে আবার বাড়বে। কারণ সামনে কোরবানির ঈদ। তখন আবার প্রবাসীরা বেশি রেমিট্যান্স পাঠাবে।