রাশিয়ার আরও তেল কিনতে বাধ্য হতে পারে শ্রীলঙ্কা: প্রধানমন্ত্রী

Published: 12 June 2022, 4:30 PM

নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সঙ্কটে জ্বালানি ঘাটতির মুখে থাকা শ্রীলংকা বিকল্প কোনও উৎস না পেলে রাশিয়া থেকে তেল কিনতে বাধ্য হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপি’কে শনিবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, প্রথমে তারা অন্য উৎস থেকে তেল আমদানি করতে চাইবেন। কিন্তু মস্কো থেকে তাদের আরও অপরিশোধিত তেল কিনতে হতে পারে। সে পথও তারা খোলা রাখবেন।

সাত দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ আমদানি ব্যয় পরিশোধে মারাত্মক ডলার ঘাটতিতে পড়েছে দেশটি।

পেট্রল স্টেশনগুলোতে মানুষের লম্বা সারি নিয়মিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। কখনও এ সারি কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। তার ওপর রয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ।

যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা যখন রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের প্রবাহ কমানোর চেষ্টা করছে, তখন রাশিয়া বিভিন্ন দেশকে ব্যাপক ছাড়ে অপরিশোধিত তেল বিক্রির প্রস্তাব দিচ্ছে।

এমন প্রস্তাবে অনেক দেশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে উৎসাহিত হচ্ছে। শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে একইসঙ্গে দেশের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।

শ্রীলংকার ওপর ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ থাকার পরও চীন থেকে আরও আর্থিক সহায়তা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিক্রমাসিংহে। তিনি বলেছেন, শ্রীলঙ্কার বর্তমান দুর্দশা ‘নিজেদের তৈরি’ এবং ইউক্রেইন যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

২০২৪ সাল নাগাদ মারাত্মক খাদ্যসংকট চলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিক্রমাসিংহে। রাশিয়া শ্রীলঙ্কায় গম রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে বলেও এপি’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহকারী পুরোনো দেশগুলোর কাছ থেকেও তেল ও কয়লা পাওয়ার চেষ্টা করে আসছে শ্রীলঙ্কা। তেল আমদানি করতে বর্তমানে বেসরকারি সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন কর্মকর্তারা।

রাশিয়া গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইউক্রেইনে হামলা শুরু করলে বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়।