রেমিট্যান্স প্রবাহে ঢল

Published: 9 July 2022, 3:27 AM

পোস্ট ডেস্ক :


আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঢল নেমেছে। প্রবাসীরা গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন। গত বুধবার এক দিনেই ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই একদিনে এত রেমিট্যান্স দেশে আসেনি। সবমিলিয়ে ঈদের আগে ছয় দিনে ৭৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা) এ অর্থের পরিমাণ ৬ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা। আর প্রবাসী আয়ের এই জোয়ারের কারণে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা আর নামবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ১০ই জুলাই দেশে কোরবানির ঈদ উদ্যাপিত হবে। সেই উৎসবকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুসহ প্রয়োজনীয় অন্য কেনাকাটা করতে অন্যবারের মতো এবারও পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। সে কারণেই রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এই সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির খুবই দরকার ছিল। এ ছাড়া এখন ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে বিনিময় হারও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, নানা পদক্ষেপের কারণে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে আশা করছি ঈদের পর মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
অবশ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, গত জুন মাসে ১৮৩ কোটি ৭২ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের মাসের চেয়ে ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার কম। চলতি বছরের মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। গত বছর মে মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৯৪ কোটি ৮ লাখ ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১.৩ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫.১১ শতাংশ কম। তারা ২০২০-২১ অর্থবছরে দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪.৭৭ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, নতুন অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ছয় দিনে (১ থেকে ৬ই জুলাই) ৭৪ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গড়ে প্রতিদিন এসেছে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এরমধ্যে প্রথম পাঁচ দিনে (১ থেকে ৫ই জুলাই) এসেছিল ৫৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ৬ই জুলাই বুধবার এসেছে ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এরআগে কোনো ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে এমন উল্লম্ফন দেখা যায়নি।
এদিকে রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফনের কারণে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মে-জুন মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা আর নামবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
রিজার্ভ থেকে সর্বোচ্চ ডলার বিক্রি: মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে সদ্য সমাপ্ত ২০২১-২২ অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ৭৬২ কোটি ১০ লাখ (৭.৬২ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিপরীতে বাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার মতো তুলে নেয়া হয়েছে। এদিকে রিজার্ভ থেকে অব্যাহতভাবে ডলার বিক্রি করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও বেশ কমে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১.৯৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের সামান্য ওপরে অবস্থান করছে।