‘চ্যানেল এস’ এবার ১ লাখ পাউন্ডের তহবিল নিয়ে বন্যা দুর্গতদের পাশে

Published: 23 July 2022, 3:29 PM

স্টাফ রিপোর্টার :

 


বন্যায় সিলেট বিভাগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। ভিটে বাড়ী-সম্পদ হারিয়ে বিপন্ন হাজারো পরিবার। অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতে চ্যানেল এস-এর উদ্যোগ- সেইভ সিলেট টুগেদার: ওয়ান কমিউনিটি, ওয়ান এ্যাপিল শিরোনামে। রেসকিউ এইড ট্রাস্টের মাধ্যমে চ্যানেল এস-এ দুদিন লাইভ চ্যারিটি এপিল অনুষ্ঠিত হয়। যুক্ত হয় বৃটিশ বাংলাদেশী ১৫টি পার্টনার প্রতিষ্ঠান। সাধারণ দান এবং সবার সহযোগিতায় বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনে প্রায় ১শ হাজার পাউন্ড-এর প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে অন্যতম পার্টনারদের নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিং-এ এ ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে মূখ্য আলোচক ছিলেন সেইভ সিলেট-এর প্রধান উদ্যোক্তা চ্যানেল এস এর ফাউন্ডার মাহি ফেরদৌস জলিল।
বক্তব্য রাখেন প্রজেক্ট-এর সমন্বয়ক, চ্যানেল এস এর চীফ রিপোর্টার মুহাম্মদ জুবায়ের ও ধন্যবাদ বক্তব্য রাখেন চ্যানেল এস এর চ্যরিটি কনসালটেন্ট এবং রেসকিউ এইড ট্রাস্ট-এর ট্রাস্টি হাসান রহমান।
প্রেস ব্রিফিং-এ জানানো হয়, কঠিন পরিস্থিতিতে বৃটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মানবতার পাশে দাড়ায় চ্যানেল এস। মাহি ফেরদৌস-এর অগ্রিম আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে প্রায় প্রায় ৩হাজার ৭শ মানুষকে জরুরী খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পৌছে দেয়া হয়। তারপর শত-সহ্স্র প্রবাসী এবং ঢাকাসহ বাংলাদেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে যাওয়া দানশীল মানুষের মাধ্যমে চলে জরুরী খাবারের চ্যারিটি কার্যক্রম।
এর ফলে বিকল্প পরিকল্পনা নেয় টিম চ্যানেল এস। চারটি জেলার, বিশেষ করে সুনামগজ জেলার সাংবাদিকদের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্বাসন প্রকল্পকে অগ্রধাকিকার দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। স্থানীয়ভাবে বর্তমানে সেবা কার্যক্রম চালাচ্ছেন এমন চ্যারিটি ব্যক্তিত্ব এবং সেইভ সিলেট টুগেদার-এর বিভিন্ন পার্টনারের কাছ থেকেও পরামর্শ আসে দীর্ঘ মেয়াদী কিছু কার্যক্রম পরিচালনার জন্য।
প্রেস ব্রিফিং-এ কিছু প্রস্তাবিত কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ফ্লাড ভিকটদের ঘর নির্মান, ঘর সংস্কার, গবাদি পশু ক্রয়, টিউবওয়েল স্থাপন এবং জরুরী মেডিক্যাল ক্যাম্প অন্যতম। তবে কিছু কিছু নিভৃত গ্রামে এখোনো জরুরী খাবারের প্রয়োজনীতা আছে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়।
উল্লেখ্য পার্টনারদের কারো কারো কাছ থেকে যেমন আগাম প্রতিশ্রুতির তুলনায় বেশী অর্থ কালেকশন হয়েছে, তেমনি কিছু পার্টনার ফান্ডরেইজিং-এ তুলনামূলকভাবে কম সফল হয়েছেন। তবে প্রায় সকলেই লাইভ এ্যাপিলে সময় দিয়ে সামগ্রিক ফান্ডরেইজিং সফল করার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রাখেন। চ্যানেল এস-একটি লাইভ সমাপনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিস্ট পার্টনারদের চুড়ান্ত অংক উল্লেখ করে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
নূন্যতম ৫ হাজার পাউন্ড-এর প্রতিশ্রুতি নিয়ে সেইভ সিলেট টুগেদার-এর প্রাইম পার্টনার হচ্ছে বৃটিশ বাংলাদেশ ক্যাটারাস এসোসিশেন ( বিবিসিএ), এম কে সি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও শেফ অনলাইন। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শেফ অনলাইন প্রায় ৮ হাজার পাউন্ড কালেকশন করে শীর্ষে রয়েছে। ২য় অবস্থানে আছে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব, অংক ছাড়িয়েছে সাড়ে ৬ হাজার পাউন্ড।
এছাড়াও পার্টনার হিসেবে আছে বাংলাদেশ সেন্টার, বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ( বিবিসিসি), গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল, এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী সলিসিটার্স, বালাগন্জ-ওসমানী নগর সমিতি, রনধির পাল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, প্রাউড টু বি সিলেটী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, ছাতক উপজেলা স্পোটিং ক্লাব, গোয়াইনঘাট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, লালাবাজার ইউনিয়ন এডুক্যাশন ট্রাস্ট ও ক্রিকেট প্লেয়ার এসোসিয়েশন মৌলভীবাজার। পার্টনাররা নূন্যতম ৩ হাজার পাউন্ডের প্রতিশ্রুতি দিলেও এ পর্যন্ত প্রেস ক্লাব এই অংক দিগুণ করেছে, অন্যরা যেমন কাছাকাছি পৌছেছেন আবার কেউ কেউ এ পর্যন্ত কালেকশন করেছেন ১ হাজার পাউন্ড।
প্রেস ব্রিফিং-এ মাহি জলিল সব দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই বন্যার কারণে শত-সহস্র পরিবারের আজ মাথাগুজার ঠাই নেই। কারো কারো ঘরে এখোনো নেই জরুরী খাবার এবং নেই বিশুদ্ধ পানির কোনো নিশ্চয়তা। বুড়ো মানুষ এমনকী শিশুরা আরো বেশী বিপর্যস্ত। সেইভ সিলেট টুগেদারের মাধ্যমে আমরা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলাম, সবাই মিলে কিছু কাজ করা যায়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এই সামান্য অর্থে সব সমস্যার সমাধান হবে। মানুষের পাশে দাড়ানোর এই প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রাইম পার্টনার শেফ অনলাইনের সিইও মোহাম্মদ মুনিম সালিক বলেন, চ্যানেল এস একটি উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি সফল হবে আমার বিশ্বাস ছিলো তাই এতে যুক্ত হয়েছি। এখন এর যথার্থ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এর চুড়ান্ত সফলতা দেখতে চাই।
বিবিসিএ সেক্রেটারী তোফাজ্জুল মিয়া বলেন, চ্যানেল এস যেসব বিশেষ প্রজেক্ট নিয়েছে সবগুলোতে আমরা ছিলাম। যেমন সেইভ তাফিদা ক্যাম্পেইন, লাভ ফর এনএইএচএস, আরএফসি এবং বর্তমানে চলছে সেইভ সিলেট টুগেদার। মানবতার পাশে দাড়ানোর ক্ষেত্রে এইসব প্রজেক্ট স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এম কে সি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এর চেয়ার মনজুরুস সামাদ চৌধুরী মামুন বলেন, চ্যানেল এস সবাইকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে এসেছে, সকল শীর্ষস্থানীয় সংগঠনের সাথে আমিও নিজে যুক্ত হতে পেরেছি-এটা আমার জন্য আনন্দের। কারণ ভালো কাজ একা করা যায়, কিন্তু বড়সড় ভালো কাজ সবাই মিলে করতে হয়।
প্রেস ব্রিফিং-এ হাসান হাফিজ জানান, সিলেটে টিম চ্যানেল এস এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং ইউকে’র ডেলিভারী পার্টনারদের সহযোগিতায় পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে। স্বচ্ছতার জন্য সবকাজের মিডিয়া কাভারেজ বা রেকডিং-এর ব্যবস্থা রাখা হবে।
অনুষ্ঠানে পার্টনারদের মধ্য থেকে উপস্থিত ছিলেন বিবিসিসি লন্ডন রিজিওন প্রেসিডেন্ট মনির আহমদ, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হক চৌধুরী, সেক্রেটারী তাইসির মাহমুদসহ আরো অনেকে।