কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হ্যানয় ও নয়াদিল্লি।
ভিয়েতনাম-ভারত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: জনগণের সংযোগে জোর
ভিয়েতনাম ও ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করতে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, শিক্ষাগত বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী করতে এ ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। এই প্রেক্ষাপটে ভিয়েতনাম ইউনিয়ন অব ফ্রেন্ডশিপ অর্গানাইজেশনের (ভিইউএফও) সভাপতি ফান আং সন হ্যানয়ে ভারতের রাষ্ট্রদূত শেরিং ওয়াংচুক শেরপার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ আগামী দিনে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত শেরিং ওয়াংচুক শেরপা ভিয়েতনাম-ভারত বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করতে ভিইউএফও এবং ভিয়েতনাম-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ভিয়েতনামে ভারতীয় দূতাবাস দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে ভিয়েতনাম ও ভারতের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। তবে দুই দেশ এখন উপলব্ধি করছে যে, সরকারি পর্যায়ের কূটনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে সম্পর্কই দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি।
ফান আং সন বৈঠকে বলেন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সংগঠনের পারস্পরিক বিনিময় দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও বেশি বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। বৈঠকে প্রতিনিধিদল বিনিময়, একাডেমিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। আগামী মাসগুলোতে বিভিন্ন কর্মশালা, গোলটেবিল বৈঠক এবং মতবিনিময় সভা আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জনগণ-জনগণ যোগাযোগ কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক বৈঠক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করলেও শিক্ষার্থী, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণই দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও কার্যকর করে তোলে। বিশেষ করে শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ উভয় দেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। ভিয়েতনাম ও ভারত উভয়ই জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে আরও গতিশীল করতে পারে।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং বাস্তবমুখী সহযোগিতা প্রকল্প বাস্তবায়নে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের বিষয়ে একমত হয়। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান এনহ্যান্সড কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ আরও এগিয়ে নিতে জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করাই হবে আগামী দিনের অন্যতম অগ্রাধিকার। হ্যানয়ের এই বৈঠক স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে ভিয়েতনাম ও ভারত শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি, গবেষণা এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি আরও বিস্তৃত ও টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।




