বেঙ্গালুরুভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্টার্টআপ সিম্পলিস্মার্ট সিরিজ-বি বিনিয়োগ পর্বে ১৪ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। ডালাস ভেঞ্চার ক্যাপিটালের নেতৃত্বে এই বিনিয়োগে যোগ দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া।

এনভিডিয়ার বিনিয়োগে নতুন গতি, ১৪ মিলিয়ন ডলার পেল সিম্পলিস্মার্ট

Published: 2 November 2026

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শক্তিশালী কম্পিউটিং অবকাঠামোর চাহিদা। বিশেষ করে জেনারেটিভ এআইসহ জটিল মডেল চালাতে বিপুলসংখ্যক গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ প্রয়োজন হচ্ছে। এতে ব্যয়ও বাড়ছে দ্রুত। এই বাস্তবতায় কম খরচে ও আরও দক্ষভাবে এআই মডেল পরিচালনার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে ভারতের সিম্পলিস্মার্ট। প্রতিষ্ঠানটির ১৪ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ-বি বিনিয়োগ পর্বের নেতৃত্ব দিয়েছে ডালাস ভেঞ্চার ক্যাপিটাল। এনভিডিয়ার পাশাপাশি এতে অংশ নিয়েছে অ্যাকসেল, শাস্ত্র ভিসি ও মাইক্রোম্যাক্স। নতুন বিনিয়োগসহ চার বছর বয়সী বেঙ্গালুরুভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জেনারেটিভ এআই ও অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা পরিচালনায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। কিন্তু বড় পরিসরে এসব মডেল নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ীভাবে চালানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কারণ সব এআই ব্যবস্থার জন্য একই ধরনের গতি, কার্যক্ষমতা কিংবা কম্পিউটিং সক্ষমতার প্রয়োজন হয় না। এই সমস্যার সমাধানেই কাজ করছে সিম্পলিস্মার্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী এআই মডেল কীভাবে পরিচালিত হবে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করে। ফলে প্রতিটি কনফিগারেশন আলাদাভাবে পরিচালনার পরিবর্তে বিদ্যমান কম্পিউটিং অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
সিম্পলিস্মার্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অমৃতাংশু জৈনের ভাষায়, কোনো প্রতিষ্ঠানেরই সবসময় সবচেয়ে দ্রুত কিংবা সবচেয়ে সস্তা ইনফারেন্স প্রয়োজন হয় না। বরং তাদের নির্দিষ্ট কাজের জন্য উপযুক্ত গতি ও ব্যয়ের সমন্বয় দরকার। সিম্পলিস্মার্টের সফটওয়্যার মূলত এআই মডেল ও সেটি পরিচালনায় ব্যবহৃত কম্পিউটিং অবকাঠামোর মধ্যে একটি প্রযুক্তিগত স্তর হিসেবে কাজ করে। গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী মডেল স্থাপন ও পরিচালনার পাশাপাশি রেসপন্স টাইম, অনুরোধের পরিমাণ এবং কম্পিউটিং রিসোর্সের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করে এটি। গ্রাহকেরা সিম্পলিস্মার্টের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এআই মডেল চালাতে পারেন। আবার নিজেদের ক্লাউড কিংবা নিজস্ব অবকাঠামোতেও প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা যায়। মডেল ফাইন-টিউনিং, চাহিদা অনুযায়ী কম্পিউটিং সক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো বা কমানো এবং পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণের সুবিধাও রয়েছে এতে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এআই ভিডিও তৈরির প্ল্যাটফর্ম ইনভিডিও তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে জিপিইউ পরিচালনার ব্যয় ৫৬ শতাংশ কমিয়েছে। সিম্পলিস্মার্টের গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে এআই ভিডিও প্রতিষ্ঠান হেইজেন ও হিগসফিল্ড এবং এন্টারপ্রাইজ এআই স্টার্টআপ ইমা। ভারতের ক্লাউড সেবাদাতা ইয়োটাও তাদের শক্তি স্টুডিও প্ল্যাটফর্মের সার্ভারলেস এআই ইনফারেন্স সেবায় সিম্পলিস্মার্টের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। জৈনের দাবি, গত ছয় মাসে সিম্পলিস্মার্টের বার্ষিকীকৃত রাজস্বের হার ১৪ গুণ বেড়ে আট অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছে। তবে সুনির্দিষ্ট রাজস্বের পরিমাণ প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ভারতে গ্রাহকসংখ্যা বেশি হলেও মোট রাজস্বের অর্ধেকের বেশি আসছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
এনভিডিয়ার সঙ্গে সিম্পলিস্মার্টের সম্পর্ক কেবল বিনিয়োগেই সীমাবদ্ধ নয়। এনভিডিয়ার ডায়নামো ইনফারেন্স সফটওয়্যারের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সমন্বয় নিয়েও দুই প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে। জৈনের মতে, সিম্পলিস্মার্টের প্রকৌশলীরা এনভিডিয়ার সলিউশন আর্কিটেক্টদের সঙ্গে কাজ করেছেন। সম্ভাব্য গ্রাহক ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরিতেও সহায়তা করেছে এনভিডিয়া। এই বিনিয়োগ এআই অবকাঠামোর বাজারে একটি কৌতূহলোদ্দীপক সমীকরণও তৈরি করেছে। এআই চিপের বাজারে প্রভাবশালী এনভিডিয়া এমন একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করছে, যার প্রযুক্তি কিছু ক্ষেত্রে কম জিপিইউ ব্যবহার করেই এআই মডেল চালাতে সহায়তা করতে পারে। তবে জৈনের যুক্তি, এআই পরিচালনা আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ী হলে শেষ পর্যন্ত এনভিডিয়াও উপকৃত হতে পারে। কারণ এতে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত হতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে এআই হার্ডওয়্যারের বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। তবে দ্রুত বর্ধনশীল এই বাজারে সিম্পলিস্মার্টের সামনে প্রতিযোগিতাও কম নয়। এনভিডিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তির পাশাপাশি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস, গুগল ক্লাউড ও মাইক্রোসফট অ্যাজুরের মতো বড় ক্লাউড সেবাদাতারাও এ বাজারে সক্রিয়। একই সঙ্গে একাধিক স্টার্টআপ জিপিইউ অবকাঠামোর ব্যয় কমিয়ে এআই ইনফারেন্স আরও দ্রুত ও দক্ষ করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।
সিম্পলিস্মার্ট প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২২ সালে। এর দুই প্রতিষ্ঠাতা সাবেক ওরাকল প্রকৌশলী অমৃতাংশু জৈন এবং সাবেক গুগল প্রকৌশলী দেবাংশ ঘটক। বিটস পিলানিতে পড়াশোনার সময় তাঁদের পরিচয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মী রয়েছেন ৫৮ জন। নতুন বিনিয়োগের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা সম্প্রসারণ, কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধি এবং এআই ইনফারেন্স প্রযুক্তির আরও উন্নয়নে ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে সিম্পলিস্মার্ট। প্রতিষ্ঠানটির কাছে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবেই থাকছে। এর আগে সিম্পলিস্মার্ট ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে ৪০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের আলোচনা চালাচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে জৈন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি সক্রিয়ভাবে তহবিল সংগ্রহ করছিল না এবং বর্তমান সিরিজ-বি বিনিয়োগ পর্ব ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

সুমনা আদক, যুক্তরাজ্য