ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আনিসা খান
পোস্ট ডেস্ক :
ইংল্যান্ডের নারী জাতীয় কাবাডি দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আনিসা খান। আগামী ২৩ অক্টোবর ভারতের আহমেদাবাদে শুরু হতে যাওয়া কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

ব্যবসা ও টেলিভিশন জগতে পরিচিতি অর্জনের পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব নিয়ে আলোচনায় এসেছেন মৌলভীবাজারের পারিবারিক শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত এই তরুণী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই অধিনায়ক হওয়ার খবর জানিয়েছেন আনিসা। তাঁর বাবা ইয়াওয়ার খানও প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি আনিসাকে ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা আসে বলে জানান তিনি।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আনিসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক হয়েছি। ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাবাডি সোসাইটিতে যোগ দিয়েছিলাম একেবারে নতুন খেলোয়াড় হিসেবে। কখনো ভাবিনি, নতুন একটি খেলার সঙ্গে পরিচিত হওয়া আমাকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসবে।”
তিনি আরও লেখেন, “আগামী সপ্তাহে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে অসাধারণ একদল নারীকে নেতৃত্ব দিতে ভারতে যাচ্ছি। এ নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত।”
মৌলভীবাজারে পারিবারিক শিকড়
আনিসা খানের পৈতৃক বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার আকুয়া গ্রামে। তাঁর বাবা ইয়াওয়ার খান ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। শুরুতে রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে আবাসন খাতে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের এশিয়ান কারি অ্যাওয়ার্ডসের প্রতিষ্ঠাতা। চার ভাইবোনের মধ্যে আনিসা সবার ছোট।
যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা আনিসার কাবাডির সঙ্গে পরিচয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে খেলাটির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে জায়গা করে নেন ইংল্যান্ডের নারী জাতীয় দলে। ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান বিচ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপেও ইংল্যান্ড দলের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
এলএসই, ব্যবসা ও ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’
পড়াশোনার ক্ষেত্রে আনিসা লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (এলএসই) থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেঞ্চারে কাজ করেন। চাকরির পাশাপাশি নিজস্ব ব্যবসা গড়ে তোলার আগ্রহ থেকে করোনা মহামারির সময় তিনি ‘বোম্বে পিৎজা’ নামে একটি খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন।
২০২৫ সালে বিবিসি ওয়ানের জনপ্রিয় ব্যবসাভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এ অংশ নিয়ে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক পরিচিতি পান আনিসা। ব্রিটিশ ব্যবসায়ী লর্ড অ্যালান সুগারের কাছ থেকে আড়াই লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় তিনি রানারআপ হন।
ব্যবসা পরিচালনা ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ব্যস্ততার মধ্যেও কাবাডির প্রতি তাঁর আগ্রহ অটুট রয়েছে।
নিজের পথচলার কথা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনিসা লেখেন, “আমি এলএসই থেকে স্নাতক হয়েছি, অ্যাকসেঞ্চারে কাজ করেছি, বোম্বে পিৎজা গড়ে তুলেছি এবং ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। জীবন আমাকে নানা দিকে নিয়ে গেছে, কিন্তু সব সময়ই কাবাডি আমার সঙ্গে থেকেছে।”
অধিনায়ক হিসেবে নতুন অধ্যায়
আগামী ২৩ অক্টোবর ভারতের আহমেদাবাদে শুরু হচ্ছে কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডসহ ১৪টি দেশের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এই আসরেই ইংল্যান্ড নারী জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করবেন আনিসা খান। ব্যবসা, গণমাধ্যম ও ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর বহুমুখী পথচলা যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
মৌলভীবাজারের পারিবারিক শিকড় থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পাওয়া আনিসার সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ—দলকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেওয়া।




